১৬ ডিগ্রির হাড়কাঁপানো ঠান্ডার সকালে এক নতুন আমেজে জেগেছে তিলোত্তমা ঢাকা
গত সপ্তাহের তীব্র শীতের রেশ কাটতে না কাটতেই তিলোত্তমা রাজধানীতে আবারও ফিরে এসেছে হাড়কাঁপানো হিমেল পরশ। বৃহস্পতিবার সকালে ঘুম ভাঙা শহরবাসীর জন্য এক নতুন বার্তা নিয়ে এলো কুয়াশাভেজা ঠান্ডা বাতাস ও মেঘলা আকাশ। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এদিন ঢাকার তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে নেমে এসেছে ১৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা নগরজীবনে শীতের আমেজকে নতুন করে জাগিয়ে তুলেছে। সাধারণ মানুষ "কনকনে ঠান্ডায়" জুবুথুবু হয়ে দিন শুরু করলেও প্রকৃতিতে এক নতুন মেজাজ পরিলক্ষিত হচ্ছে।
আবহাওয়ার বর্তমান পরিস্থিতি
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টায় ঢাকার তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৬.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল আকাশচুম্বী ৯৮ শতাংশ, যা ঠান্ডার অনুভূতিকে আরও তীব্র করে তুলছে। এদিন সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়, যা আগের দিনের সর্বোচ্চ ২৬.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের তুলনায় অনেকটা কম। সকাল ৭টা থেকে পরবর্তী কয়েক ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকলেও আবহাওয়া মূলত শুষ্ক থাকবে।
উত্তরাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহের শঙ্কা
কেবল রাজধানী ঢাকাতেই নয়, হাড়কাঁপানো শীতের প্রবল প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের অন্যান্য প্রান্তেও। বিশেষ করে দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের কিছু কিছু জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এর ফলে সারাদেশে রাত ও দিনের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, যা শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে। গ্রামীণ জনপদে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চিরাচরিত দৃশ্য এখন শহর ও মফস্বলে সমানভাবে চোখে পড়ছে।
বাতাসের গতি ও দিক
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়েছে যে উত্তর বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে ঠান্ডা বাতাস বয়ে যেতে পারে। তবে স্বস্তির বিষয় এই যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের কোথাও কোনো উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়নি। দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডা অনুভূত হওয়ার মাত্রা আরও বাড়তে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। আজ সূর্যাস্ত হবে সন্ধ্যা ৫টা ৩৩ মিনিটে এবং আগামীকাল সূর্যোদয় হবে ভোর ৬টা ৪৪ মিনিটে।
জনজীবনে শীতের আমেজ
এই তীব্র শীতের আগমনে জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কুয়াশার দাপট অব্যাহত থাকায় নৌপথ ও সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রেও চালকদের বিশেষ সাবধানতা মেনে চলার নির্দেশনা রয়েছে। প্রকৃতির এই হঠাৎ পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাধারণ মানুষকে পর্যাপ্ত গরম কাপড় ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।