শৈত্যপ্রবাহের দাপটে বিপর্যস্ত দেশ ও তীব্র শীত আরও কয়েক দিন চলার পূর্বাভাস
পৌষের হাড়কাঁপানো ঠান্ডায় দেশজুড়ে জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। মাঘ আসার আগেই তীব্র শীতের দাপটে মানুষের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্য স্থবির হয়ে গেছে। এই পরিস্থিতিতে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বার্তায় জানিয়েছে যে "শীতের এই তীব্রতা আগামী পাঁচ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।" ১২০ ঘণ্টার এই দীর্ঘ সময়ে ঠান্ডার অনুভূতি আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শৈত্যপ্রবাহের কবলে ১০ জেলা
দেশের ১০টি জেলার ওপর দিয়ে বর্তমানে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুরসহ উত্তরাঞ্চল ও পশ্চিমাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকায় এই শৈত্যপ্রবাহের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। এছাড়া নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙামাতি, যশোর, চুয়াডাঙ্গা এবং কুষ্টিয়া অঞ্চলেও কনকনে শীত অনুভূত হচ্ছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে এই শৈত্যপ্রবাহ আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে।
ঘন কুয়াশায় বিপর্যস্ত যোগাযোগ
শৈত্যপ্রবাহের পাশাপাশি দেশজুড়ে গভীর সংকট তৈরি করেছে মধ্যরাত থেকে দুপুর পর্যন্ত স্থায়ী ঘন কুয়াশা। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও উত্তরাঞ্চলে কুয়াশার দাপট এতটাই বেশি যে দৃষ্টিসীমা মারাত্মকভাবে কমে গেছে। এর ফলে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা সাময়িকভাবে ব্যাহত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সাধারণ মানুষকে চলাচলের ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
তাপমাত্রার সাময়িক ওঠানামা
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী পাঁচ দিন বৃষ্টির কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে আজ ও আগামীকাল সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা সামান্য বৃদ্ধি পাওয়ার একটি ক্ষীণ সম্ভাবনা রয়েছে। যদিও এই স্বস্তি খুব বেশি সময় স্থায়ী হবে না বলে আবহাওয়াবিদগণ সতর্ক করেছেন। আগামী ৮ জানুয়ারি থেকে দিনের তাপমাত্রা পুনরায় দ্রুত কমতে শুরু করবে।
শুষ্ক আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত আবহাওয়ার বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখছে না সংশ্লিষ্ট দপ্তর। এই সময়জুড়ে আকাশ প্রধানত পরিষ্কার ও আবহাওয়া শুষ্ক থাকবে। তবে উত্তরের হিমেল হাওয়ার কারণে কনকনে ঠান্ডার অনুভূতি দেশজুড়ে বজায় থাকবে। তীব্র শীতের এই মৌসুমে শিশু ও বৃদ্ধদের বাড়তি যত্নে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।