সর্বশেষ
Loading breaking news...

হিমালয়ের হাড়কাঁপানো শীতে জবুথবু তেঁতুলিয়া ও তাপমাত্রা নামল ৮ ডিগ্রিতে

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

দেশের সর্ব উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হানা দিয়েছে হাড় কাঁপানো শীত। হিমালয়ের হিমেল বাতাসের সাথে তীব্র কুয়াশা মিলে তৈরি হয়েছে এক বিপর্যয়কর পরিস্থিতি। মৃদু শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে, সোমবার সকালে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন। কনকনে ঠান্ডায় জবুথবু হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে ভোরে ও রাতে শীতের তীব্রতা অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে।

হাড় কাঁপানো ঠান্ডার নেপথ্যে

তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সোমবার সকাল ৯টায় রেকর্ডকৃত ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার সাথে বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯২ শতাংশ। এর সঙ্গে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে বয়ে চলা কনকনে ঠান্ডা বাতাস শীতের তীব্রতাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই এ অঞ্চলের তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা মৃদু শৈত্যপ্রবাহের স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে এবং বাতাসের আদ্রতা বেশি থাকায় শীতের অনুভূতি তীব্র হচ্ছে।

দু'বেলা ভাতের জোগাড়ই দুঃস্বপ্ন

এই তীব্র শীতে সবচেয়ে বড় সংকটে পড়েছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষেরা। দিনমজুর, পাথর শ্রমিক এবং চা বাগানের কর্মীরা ঘন কুয়াশা ও কনকনে ঠান্ডার কারণে ঘর থেকে বের হতে পারছেন না। নিয়মিত কাজে যেতে না পারায় তাদের আয় রোজগার প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এর ফলে বহু পরিবারে এখন "দু'বেলা খাবার জোগাড় করাটাই এক কঠিন লড়াইয়ে" পরিণত হয়েছে, যা মানবিক বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কর্মকর্তার বয়ানে আবহাওয়ার চিত্র

তেঁতুলিয়া প্রথম শ্রেণির আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার কারণেই এই মৃদু শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। হিমালয়ের খুব কাছে অবস্থানের কারণে এ অঞ্চলে শীতের প্রকোপ সব সময়ই কিছুটা বেশি থাকে। উত্তরের বাতাস সরাসরি প্রবেশ করায় তাপমাত্রার পারদ দ্রুত নিচের দিকে নামছে, যা এ অঞ্চলের স্বাভাবিক জনজীবনকে ব্যাহত করছে।

সামনে আরও কঠিন সময়

তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকলে আগামীতে তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা জনদুর্ভোগ আরও বাড়াতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তি সহসা প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত আবহাওয়া অফিস দেখছে না, বরং শীতের তীব্রতা বাড়ার পূর্বাভাসই মিলছে।

আরও পড়ুন