তেঁতুলিয়ায় হাড়কাঁপানো শীতে জনজীবন বিপর্যস্ত ও তাপমাত্রার পারদ নামল ৮ ডিগ্রির ঘরে
হিমালয়ের কোলঘেঁষা উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত এবং উত্তর দিক থেকে ধেয়ে আসা হিমেল বাতাসে জনজীবন একপ্রকার বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই জেলার তাপমাত্রা ৬ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানাম করছে যা সাধারণ মানুষের সহনশীলতার বাইরে চলে যাচ্ছে। পুরো অঞ্চলজুড়ে বয়ে যাচ্ছে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ, যার ফলে স্থবিরতা নেমে এসেছে মানুষের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে। বিশেষ করে নদী তীরবর্তী ও খোলা জায়গার বাসিন্দারা এই তীব্র শীতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।কুয়াশার চাদর ও হিমেল হাওয়াশনিবার সকাল ৯টায় দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায়, যা ছিল ৮.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, এসময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৯৯ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এর আগের দিন শুক্রবার তাপমাত্রা আরও নিচে নেমে ৬.৮ ডিগ্রিতে পৌঁছায়, যা ছিল মৌসুমের অন্যতম সর্বনিম্ন তাপমাত্রা। ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে পথঘাট এবং সূর্যের দেখা মিলছে না বললেই চলে, ফলে মহাসড়কে হেডলাইট জ্বালিয়েও যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে।জীবিকায় টান ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতীব্র এই শীতে সবচেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ, যারা দৈনিক উপার্জনের ওপর নির্ভরশীল। হাড়কাঁপানো ঠান্ডার কারণে পাথর শ্রমিক, চা শ্রমিক ও দিনমজুররা নিয়মিত কাজে যেতে পারছেন না, যা সরাসরি প্রভাব ফেলছে তাদের দৈনন্দিন আয়ে। অন্যদিকে, আবহাওয়ার এই রুদ্রমূর্তিতে শিশু ও বৃদ্ধদের স্বাস্থ্যঝুঁকি চরম আকার ধারণ করেছে এবং ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টজনিত রোগীর ভিড় ক্রমেই বাড়ছে যা চিকিৎসাসেবার ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তাতেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় বর্তমান পরিস্থিতি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে হিমেল বাতাস ও কনকনে ঠান্ডার কারণে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ অব্যাহত রয়েছে। তিনি সতর্ক করে জানান, আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা আরও কমার আশঙ্কা রয়েছে এবং এর ফলে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে। আবহাওয়া অধিদপ্তর স্থানীয় বাসিন্দাদের অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের না হওয়ার এবং গরম কাপড় ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছে। কুয়াশার ঘনত্ব বাড়লে দৃষ্টিসীমা কমে আসায় সড়ক দুর্ঘটনা এড়াতে চালকদের বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।জনদুর্ভোগ ও আগামীর শঙ্কাউত্তরের এই জনপদে শীত প্রতিবারই কষ্টের বার্তা নিয়ে আসে এবং এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে নদী অববাহিকা ও চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না, যেখানে শীতের তীব্রতা সমতলের চেয়ে অনেক বেশি অনুভূত হয়। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে শীতবস্ত্র বিতরণের কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা বিশাল চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল বলে মনে করছেন স্থানীয় ভুক্তভোগীরা। আবহাওয়ার এই বৈরী আচরণ কতদিন স্থায়ী হবে তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন এই অঞ্চলের হাজারো খেটে খাওয়া মানুষ।