সর্বশেষ
Loading breaking news...

নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে চাঁদপুরে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর বিরুদ্ধে শোকজ জারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে নির্বাচনী উত্তাপ নতুন মাত্রা পেয়েছে। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দুই হেভিওয়েট প্রার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয়েছে। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি বুধবার, ১৪ জানুয়ারি এই কঠোর আদেশ জারি করে। ফরিদগঞ্জ আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির চেয়ারম্যান এবং ফেনী'র সিভিল জজ সবুজ হোসেন এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। মূলত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সময়ের আগে প্রচারণা চালানোর দায়েই এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

অভিযুক্ত প্রার্থীরা হলেন চাঁদপুর-৪ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী লায়ন মো. হারুনুর রশিদ এবং জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা মো. বিল্লাল হোসেন মিয়াজী। আদালতের আদেশ সূত্রে জানা যায়, নির্ধারিত সময়ের আগেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়েছেন তারা। নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ রাখতেই এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে বলে অনুসন্ধান কমিটি জানিয়েছে। এই শোকজ জারির পর স্থানীয় রাজনীতিতে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের এমন কঠোর অবস্থানকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সাধারণ ভোটাররা।

ডিজিটাল প্রচারণার অভিযোগ

আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমেই নিয়ম ভঙ্গের এই ঘটনাটি নজরে আসে কর্তৃপক্ষের। বিএনপি প্রার্থী হারুনুর রশিদের পেজ থেকে গত ৬ জানুয়ারি দলীয় প্রতীক "ধানের শীষ" সহ একটি নির্বাচনী পোস্টার শেয়ার করা হয়। একইভাবে, জামায়াত প্রার্থী বিল্লাল হোসেন মিয়াজীর ব্যক্তিগত পেজ থেকে ৭ জানুয়ারি ভোট চেয়ে পোস্টার প্রকাশ করা হয়। এই ধরনের কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের পূর্বে শুরু করায় তা আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হয়েছে। অনুসন্ধান কমিটির মনিটরিং সেল বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

আইনি কঠোর বার্তা

কমিটির মতে, এই কর্মকাণ্ড সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ৩ ও ১৮ নম্বর বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এটি গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২-এর সংশ্লিষ্ট ধারা অনুযায়ী একটি "শাস্তিযোগ্য অপরাধ" হিসেবে বিবেচিত হবে। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না বলে বার্তা দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ডিজিটাল প্রচারণার ক্ষেত্রেও যে কঠোর শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হবে, এই শোকজ তারই বড় প্রমাণ। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন এখন জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে।

সশরীরে হাজিরার নির্দেশ

আদেশ অনুযায়ী, অভিযুক্ত দুই প্রার্থীকে আগামী ১৯ জানুয়ারির মধ্যে ব্যক্তিগতভাবে বা উপযুক্ত প্রতিনিধির মাধ্যমে সশরীরে হাজির হতে হবে। কমিটির সামনে উপস্থিত হয়ে তাদের এই আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে সন্তোষজনক কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জবাব সন্তোষজনক না হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতে পারে। ফরিদগঞ্জের নির্বাচনী পরিবেশে এখন টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। ১৯ জানুয়ারি প্রার্থীদের শুনানির পর কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে জেলাবাসী।

আরও পড়ুন