যবিপ্রবি শিক্ষককে অন্যের পরিচয় ব্যবহার করে তথ্য পাচারের অভিযোগে শোকজ
যবিপ্রবি শিক্ষক আমজাদ হোসেনকে অন্যের পরিচয় ভাঙিয়ে রাষ্ট্রীয় অফিসের গোপন তথ্য পাচারের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী মো. আহসান হাবীব স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে এই শোকজ নোটিশ প্রেরণ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-রেজিস্ট্রার মো. তহিদুল ইসলামের নাম ও মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর এই ঘটনা ঘটে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি বিশেষ ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেছিল। প্রাথমিক তদন্তেই অভিযুক্ত ওই শিক্ষকের সরাসরি সংশ্লিষ্টতা খুঁজে পাওয়ায় প্রশাসন এই হার্ডলাইন নিয়েছে।
তদন্ত কমিটির পর্যবেক্ষণ
গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে অভিযুক্ত শিক্ষক মো. আমজাদ হোসেনের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছে। উপ-রেজিস্ট্রারের দাপ্তরিক ঠিকানা ব্যবহার করে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে স্পর্শকাতর তথ্য আদানপ্রদান করার প্রমাণ মিলেছে প্রাথমিক তদন্তে। এর ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা চরম হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছে উচ্চতর কর্তৃপক্ষ। শৃঙ্খলাভঙ্গের এমন নজিরবিহীন ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি দারুণভাবে ক্ষুণ্ণ হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তাই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিতে এই জবাব তলব করা হয়েছে।
শাস্তিমূলক ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি
শোকজ নোটিশে অভিযুক্ত শিক্ষককে আগামী ০৫ (পাঁচ) কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ লিখিত জবাব দাখিল করার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছে। কেন তাঁর বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ আচরণ ও শৃঙ্খলা বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তার ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব প্রদানে ব্যর্থ হলে কর্তৃপক্ষ পরবর্তী কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণে বাধ্য হবে। প্রশাসন মনে করছে, এই শিক্ষক "আর কোনো বক্তব্য দিতে ইচ্ছুক নন" বলেই তখন ধরে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনাই কর্তৃপক্ষের মূল উদ্দেশ্য।
হাতেনাতে ধরা পড়ার ঘটনা
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, তথ্য পাচারের চেষ্টা চালানোর সময় ড. মো. আমজাদ হোসেন যশোর কেন্দ্রীয় পোস্ট অফিসে হাতেনাতে ধরা পড়েন। তিনি সেখানে অন্যের নাম ও পরিচয় ব্যবহার করে গোপনীয় চিঠিপত্র আদানপ্রদানের চেষ্টা করছিলেন বলে জানা গেছে। সেই সময় উপস্থিত কর্মকর্তাদের সন্দেহ হলে তাঁর আসল পরিচয় সামনে চলে আসে এবং চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার পরপরই ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রার মো. তহিদুল ইসলাম আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। পুরো ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের মাঝে ব্যাপক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
জিডি ও তদন্তের ভিত্তি
ঘটনার দিন রাতেই ভুক্তভোগী উপ-রেজিস্ট্রার যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি বা জিডি নথিভুক্ত করেছিলেন। এই আইনি পদক্ষেপই পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়ার মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে মনে করা হচ্ছে। পুলিশি তদন্ত এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ তদন্ত—উভয় ক্ষেত্রেই অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে জোরালো তথ্য-প্রমাণ সংগৃহীত হয়েছে। যবিপ্রবি প্রশাসন এই স্পর্শকাতর বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেছে। ভবিষ্যতে এমন শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে দৃষ্টান্তমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।