সর্বশেষ
Loading breaking news...

মুন্সীগঞ্জে হাড়কাঁপানো শীতে বেদে পল্লীর পাশে দাঁড়াল বসুন্ধরা শুভসংঘ

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

তীব্র শীতে মুন্সীগঞ্জের জনজীবন যখন বিপর্যস্ত, তখন সমাজের পিছিয়ে পড়া বেদে সম্প্রদায়ের কষ্ট লাঘবে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বসুন্ধরা শুভসংঘ। গত সোমবার সদর উপজেলার মিরকাদিম বেদে পল্লীতে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণের মাধ্যমে মানবিকতার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে সংগঠনটি। হাড়কাঁপানো ঠাণ্ডায় কাতর প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর হাতে উষ্ণ চাদর তুলে দিয়ে তারা বুঝিয়ে দিয়েছে যে, আর্তমানবতার সেবায় বিত্তবান ও তরুণদের অংশগ্রহণ কতটা জরুরি।

মানবতার সেবায় নৈতিক দায়িত্ব

আয়োজিত এই মহতী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ মুন্সীগঞ্জ জেলা শাখার সহ-সভাপতি হামিদা খাতুন এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আয়নাল হক স্বপন। হামিদা খাতুন তাঁর বক্তব্যে "শীতার্ত ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো কেবল সামাজিক কাজ নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব" বলে উল্লেখ করেন। তিনি তরুণ প্রজন্মের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণকে সমাজের জন্য এক বড় আশীর্বাদ হিসেবে অভিহিত করেন।

তারুণ্যের শক্তি ও ইতিবাচক পরিবর্তন

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিশিষ্ট ক্রীড়া সংগঠক আয়নাল হক স্বপন শুভসংঘের সদস্যদের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, "দুর্জয় তারুণ্যের এই মানবিক উদ্যোগ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।" স্থানীয় বাসিন্দারাও এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, শুভসংঘের এই সহায়তা তাদের শীতের কষ্ট অনেকটাই লাঘব করবে এবং বেঁচে থাকার নতুন অনুপ্রেরণা যোগাবে।

টেকসই উন্নয়নের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

কেবল সাময়িক সহায়তা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন সংগঠনের নেতারা। জেলা সাধারণ সম্পাদক ওয়াসিউ রহমান বৃন্ত নিশ্চিত করেন যে, শিক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং সামাজিক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমে বসুন্ধরা শুভসংঘের স্বেচ্ছাসেবীরা ভবিষ্যতেও আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবে। তাদের লক্ষ্য কেবল শীতবস্ত্র বিতরণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং সমাজের প্রতিটি স্তরে মানবিকতার আলো ছড়িয়ে দেওয়া।

কর্মসংস্থান ও স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ

সংগঠনের জেলা সভাপতি আবু মুহাম্মদ রুইয়াম জানান, তাঁরা আগামীতে আরও সুদূরপ্রসারী ও টেকসই উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। "শুধু শীতবস্ত্র বিতরণ নয়, বরং কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও শিক্ষা সহায়তার মাধ্যমে অবহেলিত জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নই আমাদের মূল লক্ষ্য," বলে তিনি জানান। এই কার্যক্রমের মাধ্যমে পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোকে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।

আরও পড়ুন