রজব মাসের বুকে ধারণ করা মেরাজের অলৌকিক উপাখ্যান ও রমজানের বার্তা
ইসলামি বর্ষপঞ্জির সপ্তম মাস রজব কেবল একটি সাধারণ মাস নয়, বরং এটি পবিত্র রমজানের আগমনী বার্তা। মুমিনের আত্মশুদ্ধি ও ইবাদতের বসন্তকাল হিসেবে পরিচিত এই মাসটি মুসলিম উম্মাহর জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গাফিলতির আঁধার কাটিয়ে ইবাদতের আলোয় নিজেকে রাঙানোর এই মোক্ষম সময়ে রাসুল (সা.) বিশেষ দোয়া করতেন। রজব ও শাবান মাসে আল্লাহর বরকত এবং রমজান পর্যন্ত হায়াত লাভের সেই আকুতি আজও মুমিন হৃদয়ে ধ্বনিত হয়।
সম্মানিত মাসের ঐশী ঘোষণা
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা যে চারটি মাসকে ‘সম্মানিত’ হিসেবে ঘোষণা করেছেন, রজব তার মধ্যে অন্যতম। সুরা তওবার ৩৬ নম্বর আয়াতে এই মাসগুলোর গুরুত্ব স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে, যা হাদিস শরিফেও নির্দিষ্ট করা আছে। মূলত রমজানের পবিত্রতা ধারণ ও ইবাদতের সর্বোচ্চ ফযিলত অর্জনের জন্য মানসিক ও আধ্যাত্মিক প্রস্তুতির সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে এই রজব মাস।
শোক কাটিয়ে মহাজাগতিক সান্ত্বনা
রজব মাসের বক্ষে ধারণ করা সবচেয়ে অলৌকিক ঘটনা হলো পবিত্র শবে মেরাজ, যা মানবীয় কল্পনার সীমানাকেও হার মানায়। প্রিয়তমা স্ত্রী খাদিজা (রা.) ও চাচা আবু তালিবের বিয়োগে রাসুল (সা.) যখন মক্কায় গভীর শোকে নিমজ্জিত, ঠিক তখনই আল্লাহ তাঁকে এই মহিমান্বিত সফরের আমন্ত্রণ জানান। হিজরতের পূর্বে সংঘটিত এই ঘটনা ছিল প্রিয় নবীর জন্য এক ‘ঐশ্বরিক সান্ত্বনা’, যা বিষাদের কালো মেঘ সরিয়ে নবুয়তের জীবনে নতুন আলোর সঞ্চার করে।
সপ্ত আসমান ও প্রভুর সান্নিধ্য
সেই মহিমান্বিত রজনীতে ‘বুরাক’ নামক বিশেষ বাহনে চড়ে নবীজি মক্কার মসজিদুল হারাম থেকে নিমিষেই জেরুজালেমের মসজিদুল আকসায় পৌঁছান, যা ‘ইসরা’ নামে পরিচিত। সেখানে সকল নবী-রাসুলের ইমামতি শেষে শুরু হয় ঊর্ধ্বলোকের অনন্ত যাত্রা বা ‘মেরাজ’, যেখানে তিনি সাত আসমান পাড়ি দিয়ে সিদরাতুল মুনতাহায় পৌঁছান। এই সফরে তিনি আল্লাহর একান্ত সান্নিধ্য লাভ করেন এবং স্বচক্ষে জান্নাত-জাহান্নাম অবলোকন করেন।
বিশ্বাস ও নামাজের উপহার
মেরাজের এই অলৌকিক ভ্রমণ কেবল একটি ইতিহাস নয়, বরং এটি মহান আল্লাহর অসীম ক্ষমতার এক জলজ্যান্ত প্রমাণ। এই রাতে উম্মতে মুহাম্মদির জন্য উপহার হিসেবে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ ফরজ করা হয়, যা আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্কের সেতুবন্ধন। জাগতিক সকল দুঃখ-কষ্ট ও সীমাবদ্ধতার ঊর্ধ্বে আল্লাহর করুণা যে কত বিশাল, মেরাজের ঘটনা মুমিনদের সেই শাশ্বত শিক্ষাই দিয়ে যায়।