রাজশাহীতে মাদকের টাকার জন্য মাকে হত্যা: ঘাতক ছেলে আটক
রাজশাহী নগরীতে নেশাগ্রস্ত এক পুত্র নিজের মাকে কুপিয়ে হত্যার পর তার মৃতদেহ রাস্তায় ফেলে অটোরিকশা ডাকার চেষ্টা করেছেন। শনিবার রাতে নগরীর খড়খড়ি এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় অভিযুক্ত সুমনকে (৪২) পুলিশ আটক করে। নিহত নারীর নাম সোহাগী বেগম (৫৫)। প্রাথমিক তদন্তে ধারণা করা হচ্ছে, নেশার টাকা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
ধারালো অস্ত্রের নির্মম আঘাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে মা সোহাগী বেগমের পেটে ও বুকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এরপর সুমন মায়ের নিথর দেহটি বাড়ি থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে সড়কের ওপর টেনেহিঁচড়ে নিয়ে আসেন। এই দৃশ্য দেখে স্থানীয়রা স্তম্ভিত হয়ে পড়েন এবং ঘটনাটি দ্রুত এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মাদকের টাকার জন্য উন্মত্ততা
প্রতিবেশীরা জানান, ঘটনার সময় সুমনের বাড়িতে উচ্চস্বরে গান বাজছিল, যা থেকে তার নেশাগ্রস্ত থাকার বিষয়টি স্পষ্ট হয়। নেশার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এবং মা টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় সুমন ক্ষিপ্ত হয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। মাদকাসক্তি কীভাবে পারিবারিক বন্ধন ও মানবিক মূল্যবোধ ধ্বংস করতে পারে, এই ঘটনা তার এক করুণ দৃষ্টান্ত।
পালানোর ব্যর্থ চেষ্টা ও আটক
মাকে রাস্তায় ফেলে সুমন একটি অটোরিকশা ডাকার চেষ্টা করছিলেন, সম্ভবত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার নাটক করার জন্য। পথচারীরা মৃতদেহ দেখে সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে অসংলগ্ন উত্তর দেয়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে সে দৌড়ে বাড়িতে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয়। পরে পুলিশ এসে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে আটক করে এবং থানায় নিয়ে যায়।
আইনি পদক্ষেপ ও তদন্ত
পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। চন্দ্রিমা থানার ওসি জানান, অভিযুক্ত সুমনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন যে এই নৃশংস ঘটনায় দ্রুত মামলা দায়ের করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। মাদকের ভয়াবহতা রোধে সামাজিকভাবে সচেতন হওয়ার আহ্বানও জানানো হয়েছে।