সর্বশেষ
Loading breaking news...

কুষ্টিয়ায় ট্রেনের ধাক্কায় বাকপ্রতিবন্ধী নারীর মৃত্যু

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

কুষ্টিয়া সদর উপজেলায় এক মর্মান্তিক রেল দুর্ঘটনায় সম্পা খাতুন (২৫) নামের এক বাকপ্রতিবন্ধী তরুণী নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে শহরের হরিশংকরপুর এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটে। ঢাকা অভিমুখে যাত্রা করা টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের নিচে কাটা পড়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। স্থানীয়দের চোখের সামনে ঘটা এই দুর্ঘটনা এলাকায় শোকের ছায়া নামিয়ে এনেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশের প্রাথমিক তথ্যানুসারে, নিহত সম্পা খাতুন হরিশংকরপুর এলাকার মো. ফিরোজ আলীর মেয়ে। জানা গেছে, দুর্ঘটনার দিন তিনি বাড়ির পার্শ্ববর্তী খালার বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলেন। খালার বাড়ির সামনে দিয়ে রেললাইন পার হওয়ার সময় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে। বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ার কারণে ট্রেনের তীব্র শব্দ তিনি শুনতে পাননি বলে স্থানীয়রা ধারণা করছেন, যা এই দুর্ভাগ্যজনক পরিণতির মূল কারণ বলে মনে করা হচ্ছে।

রেললাইন পারাপারে অসতর্কতা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ট্রেনটি দ্রুতগতিতে আসছিল এবং বারবার হুইসেল বাজাচ্ছিল। কিন্তু সম্পা খাতুন শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধী হওয়ায় সেই সতর্কবার্তা শুনতে পাননি। তিনি অসতর্কভাবে লাইন পার হওয়ার চেষ্টা করতেই ট্রেনের ধাক্কায় ছিটকে পড়েন। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। ঘটনাস্থলেই তার শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে যায়।

পোড়াদহ জিআরপি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অসাবধানতাবশত রেললাইন পার হওয়ার সময় টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ধাক্কায় ওই তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। রেল পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।

এই মর্মান্তিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে। এই দুর্ঘটনায় নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। রেললাইন পারাপারে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিয়েছে রেলওয়ে পুলিশ, বিশেষ করে শ্রবণ ও বাকপ্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে বিশেষ নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন