রাজধানীর রাজপথে ঘাতক ট্রাকের তাণ্ডব: বাবা-মেয়েসহ অকালে ঝরল ৪টি তাজা প্রাণ
রাজধানীর ব্যস্ততম রাজপথে শুক্রবার রাতে পৃথক দুটি স্থানে ঘাতক ট্রাকের বেপরোয়া গতি কেড়ে নিয়েছে গণপূর্তের এক কর্মকর্তাসহ মোট চারজনের প্রাণ। সায়েন্সল্যাব ও তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল এলাকায় ঘটা এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে গেছে কয়েকটি পরিবার। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে এখন শুধুই স্বজনদের কান্নার রোল আর নিথর দেহের সারি।
সায়েন্সল্যাবে স্বপ্নভঙ্গ: চিরতরে নিভে গেল বাবা-মেয়ের জীবনপ্রদীপ
সায়েন্সল্যাব মোড় এলাকায় ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনাটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। শাহজাহানপুর এলাকার বাসিন্দা ও গণপূর্ত অফিসের কর্মকর্তা মো. সাজু আহমেদ সুমন (৪৫) তাঁর মেয়ে সুমাইয়া আহম্মেদ তুষাকে (২০) নিয়ে মোটরসাইকেলে ফিরছিলেন। সায়েন্সল্যাব পৌঁছামাত্রই পেছন থেকে আসা একটি দ্রুতগামী ট্রাক তাঁদের পিষে দেয়। ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান বাবা। গুরুতর আহত অবস্থায় শিক্ষার্থী তুষাকে হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। একই পরিবারের দুজনের এই চিরবিদায় যেন কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না স্বজনরা।
অন্য একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে তেজগাঁও বিজি প্রেসের সামনে। সেখানে একটি অনিয়ন্ত্রিত ট্রাকের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা। এই দুর্ঘটনায় নিহত হন যাত্রী হারুন রহমান (৩২) ও চালক আলিম (৬৫)। কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী থেকে আসা হারুন সপরিবারে মহাখালীতে বসবাস করতেন। দুর্ঘটনায় তাঁর স্ত্রী বৃষ্টি ও বোন হ্যাপিও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অন্যদিকে, মধ্য বাড্ডার বাসিন্দা চালক আলিম জীবিকার তাগিদে বের হয়ে ঘাতক ট্রাকের কবলে পড়ে না ফেরার দেশে চলে গেলেন।
নিরাপত্তাহীন রাজধানী
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক জানিয়েছেন, মরদেহগুলো বর্তমানে মর্গে রাখা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট থানাগুলোকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। এক রাতের ব্যবধানে চারটি প্রাণের অকাল প্রস্থান আবারও রাজধানীর সড়কের নিরাপত্তাহীনতার এক করুণ চিত্র ফুটিয়ে তুলেছে।