ছাত্রদল নেতার ফাঁস ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার জামায়াতকে দেখব’ স্লোগানের নেপথ্যে ৫০০ টাকার প্রতারণা
আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের এক মাসেরও কম সময় বাকি থাকতে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ছাত্রদলের নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ এনেছেন—দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষের অর্থনৈতিক দুর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে তারা সুপরিকল্পিতভাবে প্রতারণামূলক জন যোগাযোগ বা পিআর ক্যাম্পেইন চালাচ্ছে। হামিমের এই অভিযোগ রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্লোগানে সন্দেহ
শ্রমজীবী মানুষের মুখে প্রচারিত একটি বিশেষ স্লোগান প্রথম তার মনে সন্দেহ জাগায়। বিষয়টি প্রথম তার নজরে আসে নিজ এলাকা খুলনায়। খুলনা-৪ আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের জনপ্রিয়তা যথেষ্ট থাকা সত্ত্বেও তিনি এক ভ্যানচালককে বলতে শোনেন, ‘সবাইকেই তো দেখলাম, এবার একটু জামায়াতকে দেখব।’ এই ভ্যানচালক জামায়াতের প্রার্থীর নামও বলতে পারেননি, কিন্তু দলটিকে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে আগ্রহী ছিলেন।
ঢাকায় রহস্য উন্মোচন
কবি জসীমউদ্দীন হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক হামিম সম্প্রতি এক পডকাস্টে এই ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। তাঁর মনে প্রশ্ন জাগে, এলাকার জনপ্রিয় প্রার্থীর নাম না জেনেও একজন নিম্ন আয়ের মানুষ কেন জামায়াতকে সমর্থন করছেন? তবে এই প্রশ্নের উত্তর তিনি পান ঢাকায় ফিরে আসার পর। ঢাবিতে আসার পর খুলনার কয়রার একজন রিকশাচালক, যিনি পূর্বে এলাকায় বিএনপি করতেন এবং হামিমের দীর্ঘদিনের পরিচিত, তার সঙ্গে দেখা করে পুরো রহস্য ফাঁস করেন। রিকশাচালক জানান, একজন ব্যক্তি তাকে ভাড়া করে এই প্রচারণা চালানোর প্রস্তাব দিয়েছিল।
সংগঠিত প্রচারণার কৌশল
হামিমের ভাষ্যমতে, ওই ব্যক্তি রিকশাচালকের দৈনিক আয় (প্রায় হাজার-বারোশো টাকা) এবং রিকশার ভাড়ার (৫০০ টাকা) বিষয়ে জানার পর তাকে বাড়তি ৫০০ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দেয়। শর্ত ছিল সহজ: রিকশায় ওঠা প্রত্যেক যাত্রীকে উদ্দেশ্য করে বলতে হবে—‘সবাইকেই তো একবার দেখসি, এবার একটু জামায়াতকে দেখব।’ এই প্রচার যে সম্পূর্ণ সংগঠিত, তার আরও প্রমাণ মেলে রিকশাচালককে দেওয়া সতর্কবার্তায়। হামিম জানান, রিকশাচালককে বলা হয়েছিল যে ছদ্মবেশে অনেকে তার রিকশায় উঠবে এবং তিনি আসলেই প্রচার চালাচ্ছেন কিনা, তা পরীক্ষা করা হবে।
নির্বাচনী সততা নিয়ে উদ্বেগ
ছাত্রদল নেতা শেখ তানভীর বারী হামিম বিষয়টিকে ‘প্রতারণা’ আখ্যা দিয়ে বলেন, জামায়াত দিন এনে দিন খাওয়া শ্রমজীবী মানুষের দারিদ্র্যকে পুঁজি করে সংঘবদ্ধ ও সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য নিয়ে এই প্রচারণা চালাচ্ছে। এটি দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি মন্তব্য করেন, যা সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার জন্য একটি বড় হুমকি।