বিচারহীনতার প্রতিবাদে ঢাকা অচল শিক্ষার্থীরা ঘেরাও ফার্মগেট এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে
রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা ফার্মগেট মোড় এবং গুরুত্বপূর্ণ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের একাংশ অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তেজগাঁও কলেজের ছাত্র সাকিবুল হাসান রানা হত্যাকাণ্ডের এক মাসের বেশি সময় পরও খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় তারা এই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বুধবার সংঘটিত আকস্মিক এই অবরোধের ফলে রাজধানীর এই দুই প্রধান সড়কে যান চলাচল সম্পূর্ণরূপে থমকে গেছে, সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জনভোগান্তি।
এক্সপ্রেসওয়ে অবরোধ
জানা যায়, বেলা পৌনে ১২টার দিকে প্রথমে শিক্ষার্থীরা ফার্মগেট-খামারবাড়ি অভিমুখী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের অংশটিতে অবস্থান নেন। এরপর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তারা ফার্মগেট মোড়টিও পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে গোটা এলাকায় বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। কেবল এই দুই এলাকাতেই নয়, আশপাশের বিজয় সরণি, কাওরান বাজার এবং তেজগাঁও এলাকায়ও তীব্র যানজট ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যকে ঘটনাস্থলে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
দ্রুত বিচার দাবি
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, খুনিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না। তাদের অভিযোগ, মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে যাওয়ার পর যথেষ্ট সময় অতিবাহিত হলেও বিচার প্রক্রিয়ায় কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই। অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে ছিল— ‘আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে’ এবং ‘আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না’— এমন মর্মস্পর্শী স্লোগান।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
প্রসঙ্গক্রমে, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাকিবুল হাসান রানা সেই সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন। তাকে দ্রুত আইসিইউতে ভর্তি করা হলেও চার দিন চিকিৎসার পর গত ১০ ডিসেম্বর দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতের দাবিতেই আজ রাজপথ উত্তাল করেছেন তার সহপাঠীরা।
অবরোধ অব্যাহত
চলমান এই বিক্ষোভ রাজধানীর একটি বড় অংশকে স্থবির করে দিয়েছে, যা দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য ব্যাঘাত ঘটিয়েছে। শিক্ষার্থীরা ন্যায়বিচারের দাবিতে অটল রয়েছেন এবং তাদের অভিযোগ নিরসন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে, উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি জননিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করছে।