বিশ্ববিদ্যালয় আইন ও ন্যায়বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীদের অবরোধে ঢাকা অচল
বুধবার সকালে রাজধানীর দুটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট—সায়েন্সল্যাব ও ফার্মগেট—শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সায়েন্সল্যাব মোড় অবরোধ করেছেন, অন্যদিকে তেজগাঁও কলেজের ছাত্র সাকিবুল হাসান হত্যার বিচারের দাবিতে ফার্মগেটে অবস্থান নিয়েছেন আন্দোলনকারী ছাত্ররা। রাজধানীর ব্যস্ততম এই দুই মোড়ে দ্বিমুখী আন্দোলনের জেরে সৃষ্টি হয়েছে নজিরবিহীন তীব্র যানজট, যা জনদুর্ভোগকে চরমে নিয়ে গেছে।
সায়েন্সল্যাবে অধ্যাদেশের দাবিতে উত্তাল অবরোধ
প্রস্তাবিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ জারির দাবিতে দুপুর পৌনে ১টার দিকে ঢাকা কলেজ থেকে মিছিল নিয়ে এসে সাত কলেজের শিক্ষার্থীরা সায়েন্সল্যাব মোড় সম্পূর্ণরূপে অবরুদ্ধ করে দেন। তাদের মূল দাবি, আগামীকাল অনুষ্ঠিতব্য উপদেষ্টা পরিষদের সভায় ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি আইন-২০২৫ এর হালনাগাদ খসড়ার অনুমোদন দিতে হবে এবং দ্রুত রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে চূড়ান্ত অধ্যাদেশ জারি করা জরুরি। শিক্ষার্থীরা জানান, গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে আইনটির খসড়া প্রকাশিত হওয়ার পর স্টেকহোল্ডারদের সাথে একাধিক বৈঠক হয়েছে। এমনকি ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানুয়ারির শুরুতে অধ্যাদেশ জারির আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই আশ্বাসের দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না হওয়ায় তারা রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছেন। তবে শিক্ষা মন্ত্রণালয় জনসংযোগ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে, প্রশাসনিকভাবে অধ্যাদেশের চূড়ান্ত অনুমোদনের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলেছে।
ফার্মগেটে সাকিবুল হত্যার বিচার দাবি
এদিকে, সায়েন্সল্যাব অবরোধ শুরুর কিছুক্ষণ আগেই রাজধানীর অন্য প্রান্তে বিচার দাবিতে উত্তাল হয়ে ওঠে ফার্মগেট এলাকা। বেলা পৌনে ১২টা থেকে তারা প্রথমে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের খামারবাড়ি অভিমুখের অংশ এবং পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ফার্মগেট মোড়ও অবরোধ করেন। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা অবিলম্বে তাদের সহপাঠী সাকিবুল হাসান রানার খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান। তারা অভিযোগ করেন, হত্যাকাণ্ডের এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও বিচারিক প্রক্রিয়ায় কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়নি।
প্রতিবাদী স্লোগান ও অঙ্গীকার
অবরোধ চলাকালে শিক্ষার্থীরা 'আমার ভাই কবরে, খুনি কেন বাহিরে' এবং 'আমার ভাইয়ের রক্ত বৃথা যেতে পারে না'সহ বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন। উল্লেখ্য, গত ৬ ডিসেম্বর রাতে তেজগাঁও কলেজের ছাত্রাবাসে দুপক্ষের সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন উচ্চমাধ্যমিকের বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র সাকিবুল হাসান রানা। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চার দিন চিকিৎসার পর ১০ ডিসেম্বর দুপুরে তিনি মারা যান। আন্দোলনকারীরা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, খুনিদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথ ছাড়বেন না।
যানবাহন চলাচল বন্ধ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো ঢাকা শহরে তীব্র অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ঘটনাস্থলে বিপুল সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এই দ্বিমুখী অবরোধের ফলে জনজীবনে চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছে এবং নগরীর যান চলাচল ব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছে।