সিনেমা পুরুষশাসিত হওয়ার জন্য পরিচালকদের মানসিকতাকে দুষলেন অভিনেত্রী সুষমা সরকার
জনপ্রিয় অভিনেত্রী সুষমা সরকার বলেছেন, বাংলাদেশের চলচ্চিত্র শিল্প এখনো পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারেনি। শনিবার (০৩ জানুয়ারি) একটি অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সুষমা বলেন, সিনেমার গল্প এবং চরিত্র নির্বাচনে নারীদের চেয়ে পুরুষদের প্রাধান্য দেওয়া হয়, যা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি এর জন্য পরিচালকদের মানসিকতাকে দায়ী করেন। তার মতে, নারীকেন্দ্রিক গল্পে কাজ করার সাহস খুব কম পরিচালকেরই আছে।
নারীদের চরিত্রের গুরুত্বহীনতা
সুষমা অভিযোগ করেন, বেশিরভাগ সিনেমায় নায়িকাদের চরিত্রটি কেবল নায়কের শোভাবর্ধনের জন্য রাখা হয়। সেখানে নারীর কোনো শক্তিশালী ব্যক্তিত্ব বা নিজস্ব সত্তা থাকে না। তিনি বলেন, "আমাদের সমাজে নারীদের অনেক সংগ্রামের গল্প আছে, কিন্তু পর্দায় তা উঠে আসে না। পরিচালকরা মনে করেন, দর্শক শুধু মারামারি আর নায়কের বীরত্ব দেখতে চায়। এই ধারণা ভুল।"
নিজের অভিজ্ঞতার বয়ান
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে সুষমা বলেন, তিনি অনেক সময় ভালো স্ক্রিপ্টের অভাবে কাজ ফিরিয়ে দিয়েছেন। তিনি এমন চরিত্রে অভিনয় করতে চান যা সমাজের নারীদের অনুপ্রাণিত করবে। কিন্তু গতানুগতিক ধারার বাইরে কাজ করার সুযোগ খুব কম। তিনি তরুণ নির্মাতাদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন নারীদের ভিন্ন আঙ্গিকে উপস্থাপন করেন।
পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা
সুষমা মনে করেন, বিশ্বজুড়ে সিনেমা যখন নারীদের ক্ষমতায়নের কথা বলছে, তখন আমরা এখনো পিছিয়ে আছি। তিনি বলেন, "সিনেমা শুধু বিনোদন নয়, এটি সমাজ পরিবর্তনের হাতিয়ার। নারীদের সম্মানজনক এবং শক্তিশালী চরিত্রে দেখালে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গিও বদলাবে।" তিনি নারী নির্মাতাদের এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ঢালিউডের বর্তমান পরিস্থিতি
আলোচনায় তিনি ঢালিউডের বর্তমান সংকট নিয়েও কথা বলেন। তিনি বলেন, ভালো গল্পের অভাবেই দর্শক হলবিমুখ হচ্ছে। পুরুষশাসিত গল্পের ভিড়ে নারীদের গল্প হারিয়ে যাচ্ছে। তবে তিনি আশাবাদী যে, নতুন প্রজন্মের চিন্তাভাবনা বদলাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আমরা আরও ভালো মানের নারীকেন্দ্রিক সিনেমা দেখতে পাব।