সর্বশেষ
Loading breaking news...

২৮ বছর পর শাবিপ্রবি নির্বাচন স্থগিত: বিক্ষোভে উত্তাল ক্যাম্পাস, হাসপাতালে ভিপি প্রার্থী

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) দীর্ঘ ২৮ বছরের অচলায়তন ভেঙে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (শাকসু) নির্বাচন স্থগিতের ঘোষণায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। সোমবার নির্বাচন কমিশনের আকস্মিক নির্দেশনার পরপরই ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়া শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের এক পর্যায়ে জ্ঞান হারিয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন বিজয়-২৪ হল সংসদের ভিপি প্রার্থী ও ছাত্রদল নেতা খলিলুর রহমান চাঁদ।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আইসিটি ভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি চলাকালীন স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন ভিপি প্রার্থী চাঁদ। সহপাঠীরা তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করে সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকদের মতে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফুসফুসজনিত জটিলতায় ভুগছিলেন এবং অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও উত্তেজনায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটেছে। বর্তমানে তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

জাতীয় নির্বাচনের দোহাই ও স্থগিতাদেশের নেপথ্য

আগামী ২০ জানুয়ারি এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের কারণ দেখিয়ে নির্বাচন কমিশন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সব ধরনের সাংগঠনিক নির্বাচন স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। কমিশনের উপসচিব স্বাক্ষরিত এই চিঠির প্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করতেই শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন নিমিষেই ক্ষোভে পরিণত হয়।

ষড়যন্ত্রের অভিযোগ ও আন্দোলনের হুঙ্কার

বিক্ষুব্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা এই সিদ্ধান্তকে একটি ‘সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাদের অভিযোগ, একটি বিশেষ মহল ২৮ বছর পর ফিরে আসা গণতান্ত্রিক পরিবেশকে নস্যাৎ করতে চাইছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বয়হীনতাকে দায়ী করে তারা প্রশ্ন তোলেন, যখন নির্বাচনী আমেজ তুঙ্গে, তখন এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত কেন?

শাবিপ্রবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় জাতীয় নির্বাচনের সঙ্গে এর সংঘর্ষ হওয়ার কোনো যৌক্তিক কারণ দেখছেন না আন্দোলনকারীরা। তারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচন কমিশনের দোহাই দিয়ে শাকসু নির্বাচন বন্ধ করা যাবে না। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ছাত্রনেতারা। ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বর্তমানে থমথমে, শিক্ষার্থীদের চোখেমুখে প্রতিবাদের আগুন।

আরও পড়ুন