নির্বাচনের আগে সিলেটে ভারতীয় বিস্ফোরক উদ্ধার: নাশকতার আশঙ্কা
সিলেট সীমান্ত এলাকা থেকে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ভারতীয় বিস্ফোরক ও ডেটোনেটরের চালান উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা চরম আকার ধারণ করেছে। চোরাপথ ব্যবহার করে লোকালয়ে প্রবেশ করানো এসব বিস্ফোরক সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে ধরা পড়লেও এর পেছনের চক্রটি এখনও অধরা। র্যাব-৯ জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত বিস্ফোরকগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং নাশকতার উদ্দেশ্যে এগুলো দেশে আনা হচ্ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।
চোরাচালানের নতুন রুট শনাক্ত
সূত্র বলছে, ভারতীয় মেঘালয়ের চুনাপাথর খনিতে ব্যবহৃত অত্যন্ত শক্তিশালী বিস্ফোরক—'পাওয়ার জেল' এবং ইলেকট্রিক ও নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর—একটি সুসংগঠিত চোরাকারবারি নেটওয়ার্কের মাধ্যমে সিলেট সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করছে। গত এক সপ্তাহে র্যাব ও পুলিশের একাধিক অভিযানে চারটি বড় চালান আটক হয়েছে। আটক চালানের প্যাকেটের গায়ে প্রস্তুতকারক হিসেবে ভারতের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, যা সীমান্তের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
একের পর এক চালান আটক
সর্বশেষ ঘটনা ঘটে শুক্রবার রাতে, যখন কানাইঘাটের দিঘিরপাড় ইউনিয়নের কুওরেরমাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে ২৫টি পাওয়ার জেল এবং ২৭টি ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন গোয়াইনঘাটের সাতাইন এলাকা থেকেও একই ধরণের বিস্ফোরক উদ্ধার করে র্যাব। এছাড়াও তাহিরপুর ও দক্ষিণ সুরমা থেকেও পরিত্যক্ত অবস্থায় বিস্ফোরক জব্দ করা হয়েছে, তবে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।
বিপুল অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার
র্যাব-৯ এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ভারতীয় ১১ কেজি ৭৪০ গ্রাম বিস্ফোরক এবং ৭৮টি ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়েছে। একই সময়ে দেশি-বিদেশি ৪০টি আগ্নেয়াস্ত্র, ১০৪ রাউন্ড গুলি ও অন্যান্য গোলাবারুদ জব্দ করা হয়। র্যাব কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে উদ্ধারকৃত সরঞ্জামগুলো উচ্চমাত্রার শক্তিশালী বোমা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়, যা নির্বাচনের আগে বড় ধরনের নাশকতার ইঙ্গিত দেয়।
সাঁড়াশি অভিযানের রাজনৈতিক দাবি
সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি আবদুল কাইয়ূম চৌধুরী মন্তব্য করেন, নির্বাচনের আগে বিস্ফোরকের চালান ধরা পড়া গভীর উদ্বেগের বিষয়। তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের স্বার্থে অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরকের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অবিলম্বে সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানান। সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরাও বলছেন, জরুরি ভিত্তিতে চোরাচালানের রুট বন্ধ না করলে নির্বাচন ঘিরে বড় ধরনের নাশকতার আশঙ্কা থেকেই যাবে।