সর্বশেষ
Loading breaking news...

সিলেটে রাতের আড্ডা বন্ধে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: কিশোর-তরুণদের জন্য 'লাল সংকেত'

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
রমজানের রাতে সিলেটের অলিগলিতে কিশোর ও তরুণদের জটলা বেঁধে আড্ডা দেওয়া বন্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)। সম্প্রতি এক গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে এবং নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এই পদক্ষেপে অভিভাবক মহলের সহযোগিতাও কামনা করেছে পুলিশ প্রশাসন।
 

আড্ডার আড়ালে ভয়ঙ্কর অপরাধের ছায়া

দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট মহানগরীর বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় রাতের বেলায় কিশোর-তরুণদের উচ্ছৃঙ্খল আড্ডা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্কুল-কলেজ পড়ুয়া এই তরুণদের অনেকেই গভীর রাত পর্যন্ত জটলা করে উচ্চস্বরে হট্টগোল, এমনকি ব্যাট-বল নিয়ে ক্রিকেট খেলায় মেতে ওঠে।

অতীতে এই ধরনের আড্ডা থেকে অনেক বেপরোয়া ঘটনা, সহিংসতা এমনকি খুনের মতো মর্মান্তিক পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। ফলে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় সচেতন নাগরিক ও অভিভাবক মহল বরাবরই শঙ্কিত ছিলেন। এই নৈশকালীন জমায়েতগুলি প্রায়শই ছোটখাটো বিবাদ থেকে বড় ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রূপ নিতে পারে।
 

মাঠ পর্যায়ে পুলিশের কঠোর অবস্থান

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এসএমপি ইতোমধ্যে অভিযান শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, “যেসব এলাকায় এ ধরনের আড্ডা বেশি হয়, সেখানে আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে তারা দ্রুত সরে পড়ছে। আমরা প্রাথমিকভাবে ওইসব এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে মৌখিকভাবে সতর্ক করছি।”

তিনি আরও স্পষ্টভাবে জানান, এই সতর্কবার্তার পরেও যদি আড্ডা চলতে থাকে, তাহলে তাদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিভাবকদের প্রতি তাদের সন্তানদের লেখাপড়ায় মনোযোগী করতে এবং অপ্রয়োজনীয় আড্ডা থেকে বিরত রাখতে আন্তরিকভাবে ভূমিকা পালনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল আইন প্রয়োগ নয়, বরং একটি সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ।

এই পদক্ষেপটি সিলেট মহানগরীর সচেতন নাগরিকদের দ্বারা ব্যাপকভাবে স্বাগত জানানো হয়েছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে জনউপদ্রব এবং এই ধরনের অনিয়ন্ত্রিত সমাবেশ থেকে উদ্ভূত সম্ভাব্য অপরাধমূলক কার্যকলাপের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন। এই অভিযান কার্যকর হলে সমাজে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন