টাঙ্গাইলে নাশকতার ছক বানচাল করে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ৬ নেতাকে গ্রেপ্তার করল পুলিশ
টাঙ্গাইলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের এক সাঁড়াশি অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের ছয়জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গত রবিবার (১১ জানুয়ারি) থেকে সোমবার (১২ জানুয়ারি) পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের আইনের আওতায় আনে জেলা পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা প্রত্যেকেই বিভিন্ন সহিংস ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের এজাহারভুক্ত আসামি এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন ছিলেন বলে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশি জালে ধরা পড়া এই ব্যক্তিরা হলেন শাহ আলম, মো. সিফাত খান, মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, মো. জাকের হোসেন, আরিফ এবং মো. রাব্বি মিয়া। টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত একাধিক কঠোর আইনে মামলা রয়েছে, যার মধ্যে সন্ত্রাসবিরোধী আইন-২০০৯ এবং বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯০৮ উল্লেখযোগ্য। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম চালিয়ে আসছিল এবং জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
অপরাধের জঞ্জাল ও মামলার বৃত্তান্ত
গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের তালিকায় রয়েছে সংঘবদ্ধ সহিংসতা, অতর্কিত হামলা, প্রাণঘাতী জখম, হত্যা প্রচেষ্টা এবং বিস্ফোরক দ্রব্য ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধ। এছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও সাধারণ জনগণের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টির সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, এলাকার শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে এবং অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ভেঙে দিতেই এই কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।
নির্বাচন ঘিরে অস্থিতিশীলতার ছক
টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এই অভিযানের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছেন। তিনি জানান, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠানকে সামনে রেখে একদল অসাধু চক্র পরিস্থিতি ঘোলাটে করার এবং অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির ‘নীল নকশা’ তৈরি করছিল। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে জেলা পুলিশ সদা তৎপর রয়েছে এবং এই অভিযান তারই অংশ।
নির্বাচনকালীন সময়ে কেউ যাতে কোনো প্রকার নাশকতা বা সহিংসতা ঘটাতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করছে। পুলিশ সুপার উল্লেখ করেন, জনমনে স্বস্তি ফেরাতে এবং সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধির পাশাপাশি এ ধরনের বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। নাশকতার ছক অঙ্কুরেই বিনাশ করতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর বলে তিনি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় জানান।