বাবার উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় এবং দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি রবিনের কঠোর হুঁশিয়ারি
ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী তানভীর আহমেদ রবিন তার রাজনৈতিক পথচলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেছেন, তিনি তার বাবা সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মতোই এলাকার উন্নয়নে নিজেকে উৎসর্গ করতে চান। বুধবার রাতে কদমতলীর ৬০নং ওয়ার্ড বিএনপি আয়োজিত এক দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এই সংকল্পের কথা জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, জনসেবার মাধ্যমেই তিনি তার বাবার সুযোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চান। বেগম খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। অনুষ্ঠানটি এক শোকাবহ কিন্তু সংকল্পবদ্ধ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
উন্নয়নের অমলিন স্মৃতি
স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তার বাবার তত্ত্বাবধানেই ঢাকা-৪ এলাকা গ্রাম থেকে শহরে রূপান্তরিত হয়েছিল। তিনি দাবি করেন যে, কুয়েত-মৈত্রী ব্রিজ, শনির আখড়া আন্ডারপাস এবং মাতুয়াইল মা ও শিশু হাসপাতালের মতো বড় প্রকল্পগুলো বিএনপি সরকারের আমলেই বাস্তবায়িত হয়েছে। এলাকার অধিকাংশ রাস্তা, পানির পাম্প ও গ্যাসলাইন স্থাপনের কৃতিত্ব তিনি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দূরদর্শী পরিকল্পনার ওপর ন্যস্ত করেন। রবিন মনে করেন, এই এলাকার মানুষ দেশনেত্রীর উন্নয়নের ঋন কখনোই শোধ করতে পারবে না। তিনি এই উন্নয়নের ধারাকে আরও বেগবান করার প্রতিশ্রুতি দেন।
অপরাধের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি
দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষায় রবিন নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন যে, তার এলাকায় কোনো ধরনের চাঁদাবাজি বা অপরাধ সহ্য করা হবে না। "আমার এলাকায় আমার দলের কেউ যদি কখনো চাঁদা নেয় বা কোনো অপরাধ করে, আমি নিজে ঘাড় ধরে তাকে পুলিশে দেবো," রবিনের এই ঘোষণায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। তিনি শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করার আহ্বান জানান। তার এই বক্তব্য সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়েছে।
নেতৃত্বের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণ
হাজী ইউসুফ আলী ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই দোয়া মাহফিলে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানের যোদ্ধা ইয়াসিন ও রাকিব, যারা তরুণ প্রজন্মের রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরেন। ঢাকা-৪ আসনের বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে দলের হাতকে শক্তিশালী করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সুশৃঙ্খল আন্দোলনের গুরুত্ব নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেন। নেতৃত্বের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে সহায়ক হবে বলে সবাই আশা প্রকাশ করেন।
দোয়া ও মাগফিরাত
সভার শেষ পর্যায়ে সদ্য প্রয়াত সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার শান্তি কামনায় বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। বাইতুন নূর জামে মসজিদের ইমাম মুফতি মোহাম্মদ রেদওয়ান উল্লাহ এই দোয়া পরিচালনা করেন, যেখানে কান্নার এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। উপস্থিত সকলে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করেন। রবিন সভা শেষে স্থানীয় মানুষের সাথে সরাসরি কথা বলেন এবং তাদের অভাব-অভিযোগ মনোযোগ দিয়ে শোনেন। তিনি আগামীর ঢাকা-৪ আসনকে একটি আধুনিক ও নিরাপদ এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখান।