সর্বশেষ
Loading breaking news...

তারেক রহমানের নতুন সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ: ২৩ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে প্রথম ১৮০ দিনের অগ্নিপরীক্ষা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার এক চরম অর্থনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং প্রায় ২৩ লক্ষ কোটি টাকার ঋণের বিশাল বোঝা নিয়ে এই প্রশাসনকে এক কঠিন পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। জনগণের বিপুল প্রত্যাশা পূরণ এবং সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের প্রধান চ্যালেঞ্জ বা অগ্নিপরীক্ষা।

রাজস্ব আয়ের বড় অংশ যাচ্ছে ঋণের সুদে

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার ভাষণে স্পষ্ট করেছেন যে দুর্নীতি ও দুঃশাসনের কারণে পর্যুদস্ত অর্থনীতির সংস্কারই তার প্রধান কাজ। বর্তমানে সরকারি আয়ের প্রায় ২০ শতাংশই ব্যয় হচ্ছে ঋণের সুদ পরিশোধে, যা দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বরাদ্দ কমিয়ে দিচ্ছে। এনবিআর-এর রাজস্ব আদায়েও বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেওয়ায় আর্থিক চাপ আরও তীব্র হয়েছে, যা বাজেট বাস্তবায়নে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

প্রথম ১৮০ দিনের আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও লক্ষ্য

তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন যে রমজানে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ ও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখাই এই মুহূর্তের অগ্রাধিকার। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নতুন সরকারের মতো তারেক রহমানের সরকারও প্রথম ছয় মাসে কাঠামোগত সংস্কারের দিকে নজর দিচ্ছে। আইসিটি খাতে ১০ লাখ নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিবেশ তৈরি করা সরকারের অন্যতম প্রধান অর্থনৈতিক লক্ষ্য হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।

বেসরকারি খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনা এখন সবচেয়ে জরুরি, কারণ রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়েছে। প্রধানমন্ত্রী সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন মেধা ও পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দিতে, যাতে সরকারি আমলাতন্ত্রের গতি বাড়ে। সাহসী কর সংস্কার এবং ব্যাংকিং খাতের বিশৃঙ্খলা দূর করতে না পারলে অর্থনীতির চাকা ঘোরানো সম্ভব হবে না বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

শেষ পর্যন্ত আইএমএফের শর্ত মেনে রাজস্ব বাড়ানো এবং আর্থিক খাতের দুর্বলতা নিরসনই হবে সাফল্যের চাবিকাঠি। প্রথম ১৮০ দিনে যদি দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আসে, তবে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এই সীমিত সময়ের মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও কঠোর বাস্তবায়নই নির্ধারণ করবে নতুন প্রশাসনের অর্থনৈতিক ভবিষ্যৎ।

আরও পড়ুন