প্রতিশ্রুতি ভেঙে ফের সড়ক নির্মাণ! কুড়িগ্রাম সীমান্তে চরম উত্তেজনা, মুখোমুখি বিজিবি-বিএসএফ
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) পুনরায় সড়ক নির্মাণ শুরু করাকে কেন্দ্র করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। একাধিকবার আপত্তি জানানোর পরও বিএসএফ কাজ চালিয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে এবং স্থানীয় জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এই অনাকাঙ্ক্ষিত অচলাবস্থা নিরসনে এবং সীমান্তে শান্তি ফিরিয়ে আনতে সোমবার দুই দেশের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
বারবার প্রতিশ্রুতিভঙ্গ, উত্তেজনার পারদ চড়ছে
এর আগেও খলিশাকোটাল সীমান্তের এই স্পর্শকাতর অংশে বিএসএফ পাকা সড়ক নির্মাণের চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) দফায় দফায় পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে তীব্র আপত্তি জানিয়েছিল। সর্বশেষ গত শুক্রবার কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ের বৈঠকে বিজিবির কঠোর প্রতিবাদের মুখে বিএসএফ সাময়িকভাবে কাজটি বন্ধ রাখতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রতিশ্রুতির রেশ কাটতে না কাটতেই রবিবার সকাল থেকে আবারও পুরোদমে মাটি ভরাটের কাজ শুরু করে তারা, যার ফলে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয় এবং বাংলাদেশ অংশে বিজিবি টহল জোরদার করতে বাধ্য হয়।
শূন্যরেখার রহস্য ও আইনের লঙ্ঘন
আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন অনুযায়ী, সীমান্তের শূন্যরেখা বা জিরো পয়েন্ট থেকে উভয় দেশের ১৫০ গজের মধ্যে কোনো ধরনের স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। অথচ বিএসএফ এই নিয়ম বা তোয়াক্কা না করে শূন্যরেখা থেকে মাত্র ৭০ থেকে ১২০ গজ দূরে সড়কটি নির্মাণ করছে, যা নিয়েই বিজিবির মূল আপত্তি। আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রতি এই অবজ্ঞা কেবল আইনি লঙ্ঘনই নয়, বরং প্রতিবেশী সুলভ আচরণের পরিপন্থী হিসেবে দেখছে স্থানীয় প্রশাসন।
চূড়ান্ত ফয়সালার অপেক্ষায় দুই দেশ
এই সংকট সমাধানে সোমবার আন্তর্জাতিক মেইন পিলার নম্বর ৯৩৪-এর ১ নম্বর সাব পিলারের কাছে পতাকা বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। বৈঠকে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এবং ভারতের ৩ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার অংশ নেবেন বলে জানা গেছে। এই বৈঠকের ফলাফলের ওপর নির্ভর করছে সীমান্তের পরবর্তী পরিস্থিতি এবং বিএসএফ তাদের নির্মাণকাজ বন্ধ করবে কি না, তা নিয়ে অপেক্ষার প্রহর গুনছে এলাকাবাসী।
বিজিবি অধিনায়কের কঠোর বার্তা
এ বিষয়ে লালমনিরহাট-১৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম জানিয়েছেন, বিএসএফের পক্ষ থেকে এটিকে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংস্কারকাজ বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে সোমবারের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং বাংলাদেশের অবস্থান পরিষ্কার করা হবে। তিনি আরও বলেন, "বর্তমানে সীমান্ত এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বিজিবির টহল আগের চেয়ে জোরদার করা হয়েছে।"