সর্বশেষ
Loading breaking news...

জয় ও পলকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী মামলায় আজ সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের সময় দেশজুড়ে ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সংঘটিত হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে দায়ের হওয়া চাঞ্চল্যকর মামলার বিচারিক কার্যক্রম আজ থেকে শুরু হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এই মামলার প্রথম সাক্ষ্যগ্রহণের দিন ধার্য করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই মামলার অগ্রগতি দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

অভিযুক্ত ১৭ জনের তালিকায় জয় ও পলক

ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছেন সাক্ষীরা। তাঁদের জবানবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং সাবেক তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের নির্দেশেই ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল, যা ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও প্রাণহানির কারণ হয়।

কারা আছেন কারাগারে?

এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ১০ জন উচ্চপদস্থ সামরিক কর্মকর্তাসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে ১০ জন বর্তমানে কারাগারে থাকলেও বাকি সাতজন পলাতক রয়েছেন। তাদের অনুপস্থিতিতেই মামলার বিচারিক কার্যক্রম এগিয়ে চলেছে, যা আইনি প্রক্রিয়ার জটিলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তদন্তকারী সংস্থাগুলো পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গুম ও নির্যাতনের শিকার সাবেক সংসদ সদস্যের জেরা

একই দিনে ট্রাইব্যুনালে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। র‍্যাবের টিএফআই সেলে দীর্ঘ আট বছর গুম ও অমানবিক নির্যাতনের শিকার সাবেক সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমকে আজ আসামিপক্ষের আইনজীবীরা জেরা করবেন। এর আগে ট্রাইব্যুনালে তিনি তাঁর ওপর ঘটে যাওয়া ভয়াবহ নির্যাতনের বিস্তারিত বর্ণনা সাক্ষ্য হিসেবে প্রদান করেছিলেন।

মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা

আজকের এই জেরা মামলার ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ব্যারিস্টার আরমান বিন কাশেমের জবানবন্দি এবং আসামিপক্ষের পাল্টা জেরা, উভয়ই মামলার মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় ঘোষণার মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় কতটা সফল হয়, তা জানতে আগ্রহী দেশের আপামর জনগণ।

আরও পড়ুন