হাড় কাঁপানো শীতে কাঁপছে তেঁতুলিয়া মাঝারি শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্ত
দেশের সর্বোত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় হিমালয়ের হিমশীতল হাওয়ায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। হাড়কাঁপানো শীতে স্থবিরতা নেমে এসেছে মানুষের স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে। মঙ্গলবার সকালে এই অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৭.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মৌসুমে এখন পর্যন্ত অন্যতম সর্বনিম্ন। এই তীব্র শীতের কারণে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন, যা তাঁদের দৈনন্দিন জীবনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে।
তাপমাত্রার পারদ পতন
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র জানিয়েছে, মঙ্গলবার সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড হওয়ার সময় বাতাসে আর্দ্রতার পরিমাণ ছিল ৯১ শতাংশ। এসময় ঘণ্টায় ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার বেগে কনকনে ঠান্ডা বাতাস বইছিল, যা শীতের অনুভূতিকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ঠিক এর আগের দিন সোমবার সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৮.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। অর্থাৎ, "দিনের ব্যবধানে তাপমাত্রা প্রায় এক ডিগ্রি কমে যাওয়ায়" শীতের তীব্রতা আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
স্বাস্থ্যখাতে চরম সংকট
একটানা শৈত্যপ্রবাহ এবং ঘন কুয়াশার কারণে সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে শিশু ও বয়স্করা। তীব্র ঠান্ডায় সর্দি, কাশি, নিউমোনিয়া এবং শ্বাসকষ্টজনিত রোগের প্রকোপ মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয় হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে শীতজনিত রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে, স্বাস্থ্যকর্মীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। অনেক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে, যা স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
আসছে আরও তীব্র শীত?
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানিয়েছেন, বর্তমানে তেঁতুলিয়ার ওপর দিয়ে একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “আজকের তাপমাত্রা অনুযায়ী এটি একটি মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ। তবে আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি দেখে মনে হচ্ছে, তাপমাত্রা আরও হ্রাস পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।” তার এই পূর্বাভাসে অদূর ভবিষ্যতে শীতের দাপট আরও বাড়ার অশনি সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। আবহাওয়া অফিসের এই বার্তা স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে।
জনমনে নতুন উদ্বেগ
একদিকে তীব্র শীতের প্রকোপ, অন্যদিকে স্বাস্থ্যখাতে চরম সংকট—এই দুইয়ের কবলে পড়ে তেঁতুলিয়ার মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির এই রুদ্রমূর্তির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মানুষের ভোগান্তি। আবহাওয়াবিদেরা যখন আরও তীব্র শৈত্যপ্রবাহের আশঙ্কা করছেন, তখন স্থানীয় প্রশাসনকে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। অনাগত দিনগুলোতে এই অঞ্চলের মানুষ কীভাবে এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করবে, তা নিয়ে জনমনে গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে।