সর্বশেষ
Loading breaking news...

পরকালীন মুক্তির অনন্য পাথেয়: সৎকর্মের মহিমা ও তওবার বিস্ময়কর ক্ষমতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

পার্থিব জীবনের প্রতিটি কাজ পরকালের জন্য সঞ্চয় হিসেবে বিবেচিত হয়। যারা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে সৎকর্ম করেন, তাদের জন্য জান্নাতের ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সুরা আল-মুমিনে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, কিয়ামতের দিন প্রত্যেকের কর্মফল অনুযায়ী নিখুঁত বিচার করা হবে এবং সেখানে কোনো জুলুম করা হবে না। সৎকর্মই হবে পরকালীন জীবনের প্রধান সম্বল।

বিচারের কাঠগড়ায় কর্মফল ও খোদায়ী ইনসাফ

পরকালের কঠিন মুহূর্তে মানুষের আমলনামাই হবে তার মুক্তির দলিল। সেদিন গোপন ও প্রকাশ্য সকল কাজের হিসাব দিতে হবে। আল্লাহ তায়ালা দ্রুত হিসাব গ্রহণকারী এবং তিনি তাঁর বান্দাদের প্রতি অত্যন্ত দয়ালু। তবে পাপের দায়ভারও বান্দার ওপরই বর্তাবে। স্রষ্টার রহমতের প্রত্যাশা করার পাশাপাশি নিজের কর্মকে সংশোধন করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।

মানুষ ভুল ও পাপের ঊর্ধ্বে নয়, কিন্তু আল্লাহ তওবার দরজা সর্বদা উন্মুক্ত রেখেছেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, কোনো বান্দা যখন অনুতপ্ত হয়ে স্রষ্টার কাছে ফিরে আসে, তখন আল্লাহ মরুভূমিতে উট ফিরে পাওয়া ব্যক্তির চেয়েও বেশি খুশি হন। তওবার মাধ্যমে জীবনের সবচেয়ে বড় অপরাধও ক্ষমা করিয়ে নেওয়া সম্ভব, যদি তা আন্তরিক হয়।

জুহায়নাহ গোত্রের এক মহিলার ঘটনা তওবার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। নিজের ভুল স্বীকার করে যখন তিনি নবীর কাছে শাস্তি চান, তখন তাঁর সেই গভীর অনুশোচনা মদিনার সত্তর জন মানুষের মুক্তির জন্যও যথেষ্ট ছিল। একইভাবে এক শত জন মানুষকে হত্যাকারী ব্যক্তির তওবাও আল্লাহ কবুল করেছিলেন তাঁর অন্তরের বিশুদ্ধ সদিচ্ছার কারণে। এই ঘটনাগুলো আমাদের আশার বাণী শোনায়।

পরিশেষে, ক্ষমা এবং দয়া মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠ গুণ। স্রষ্টার ক্ষমা লাভের প্রত্যাশা করলে আমাদের উচিত অন্য মানুষের প্রতিও ক্ষমাশীল হওয়া। সৎকর্ম ও আন্তরিক তওবার মাধ্যমেই পরকালীন জীবনে মুক্তি ও চিরস্থায়ী সুখ অর্জন করা সম্ভব। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী মোহে মত্ত না হয়ে আখেরাতের জন্য পাথেয় সংগ্রহ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

আরও পড়ুন