সর্বশেষ
Loading breaking news...

সর্বনাশা মিথ্যা শপথ: ইসলামে এর ভয়াবহ পরিণতির বর্ণনা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মহান সৃষ্টিকর্তার নামে মিথ্যা শপথ বা অসত্য কসম করা ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুতর অপরাধ, যা কবিরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। পবিত্র কোরআনে এই ধরনের চরম পাপের পরিণতি সম্পর্কে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। সূরা আলে ইমরানের ৭৭ নম্বর আয়াতে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে যে, যারা আল্লাহর নামে করা অঙ্গীকার সামান্য পার্থিব স্বার্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেয়, তাদের জন্য পরকালে কোনো পুরস্কার থাকবে না। কিয়ামতের দিনে আল্লাহ তাদের প্রতি করুণার দৃষ্টিতে তাকাবেন না।

ঐশ্বরিক সতর্কতার প্রেক্ষাপট

এই আয়াতের অবতরণের প্রেক্ষাপটটি বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এক সময় দুজন ব্যক্তির মধ্যে জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তারা বিশ্বনবী (সা.)-এর দরবারে হাজির হন। বিবাদী পক্ষ নিজের দাবির সমর্থনে মিথ্যা শপথ করতে উদ্যত হলে আল্লাহ তায়ালা এই আয়াতটি নাজিল করেন। এর ফলে মিথ্যাবাদী ব্যক্তি শপথ করা থেকে বিরত হন এবং জমির প্রকৃত মালিক তার অধিকার ফিরে পান। এটি প্রমাণ করে যে, পার্থিব লোভে করা মিথ্যা শপথ আল্লাহর কাছে ক্ষমার অযোগ্য।

'ইয়ামিনে গামুস' বা নিমজ্জিতকারী শপথ

ইসলামি শরীয়তের পরিভাষায়, মিথ্যা শপথের মাধ্যমে সত্য গোপন করার প্রক্রিয়াকে ‘ইয়ামিনে গামুস’ বলা হয়। কারণ, এই মিথ্যা কসম শপথকারী ব্যক্তিকে সরাসরি পাপের অতল গহ্বরে ডুবিয়ে দেয়। হাদিস শরিফেও এর ভয়াবহ পরিণতির কথা বলা হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সা.) সতর্ক করেছেন যে, যে ব্যক্তি অন্যের সম্পদ আত্মসাৎ করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা শপথ করে, সে আল্লাহর সাক্ষাতে এমন অবস্থায় উপস্থিত হবে যখন আল্লাহ তার ওপর ভীষণভাবে ক্রুদ্ধ থাকবেন।

সর্বোচ্চ শাস্তিপ্রাপ্ত তিন শ্রেণির মানুষ

রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘোষণা করেছেন যে, কিয়ামতের দিনে তিন ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে আল্লাহ সরাসরি কথা বলবেন না এবং তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি। এই তালিকায় রয়েছেন: যারা অহংকারবশত কাপড় গিরার নিচে পরে, যারা দান করার পর খোটা দেয় এবং যারা অসত্য শপথের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করে। সামান্য কোনো অধিকার থেকে কোনো মুসলমানকে বঞ্চিত করার জন্য মিথ্যা শপথ করলে আল্লাহ জান্নাত হারাম করে দেন।

বিশেষজ্ঞরা ব্যাখ্যা করেছেন, আয়াতে বর্ণিত 'সামান্য মূল্য' বলতে জাগতিক ক্ষুদ্র স্বার্থকেই বোঝানো হয়েছে। আয়াতে 'কথা না বলা' এবং 'করুণার দৃষ্টি না দেওয়া' বলতে ক্ষমা না করার বিষয়টি উঠে এসেছে। যেহেতু বান্দার অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে আল্লাহ সাধারণত ক্ষমা করেন না, তাই আল্লাহর নামে করা যেকোনো অঙ্গীকার ভঙ্গের পরিণতি ইহকাল ও পরকাল উভয়ের জন্যই অত্যন্ত ভয়াবহ ও যন্ত্রণাদায়ক।

আরও পড়ুন