পবিত্র রমজান মাসের আগমনী বার্তা নিয়ে জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রথম তারাবিহ নামাজ। হাজার হাজার ফিলিস্তিনি মুসল্লি কঠোর নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যেই নামাজ আদায় করেন। গোটা এলাকা জুড়ে ইসরায়েলি পুলিশের নিশ্ছিদ্র উপস্থিতির মধ্যেই মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এই জামাত সম্পন্ন হয়।
প্রহরী পরিবেষ্টিত ইবাদত: দৃশ্যপটে পুলিশি টহল
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে আনাদোলু জানিয়েছে, এশার নামাজের পর পরই মুসল্লিরা মসজিদের মূল হলরুম এবং উন্মুক্ত চত্বরগুলোতে ভিড় জমান। আল-আকসা মসজিদের খতিব শেখ ইউসুফ আবু স্নেইনাহ নামাজে ইমামতি করেন। তবে নামাজের স্বাভাবিক পরিবেশ ছাপিয়ে যায় ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি। ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, নামাজ চলাকালীন সময়েও পুলিশ সদস্যরা কম্পাউন্ডের ভেতরে অবস্থান নিয়ে মুসল্লিদের মাঝে টহল দিচ্ছেন, যা ধর্মীয় আবহের বদলে উত্তেজনাকেই প্রকট করে তুলছিল।
রমজান ঘোষণা ও প্রবেশাধিকারে কঠোর বিধিনিষেধ
জেরুজালেম এবং ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের গ্র্যান্ড মুফতি শেখ মোহাম্মদ হোসেন বুধবার থেকে রমজান মাস শুরুর ঘোষণা দেন। ইসলামি শরীয়াহ মোতাবেক চাঁদ দেখা যাওয়ায় ২০২৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি হিজরি ১৪৪৭ সনের প্রথম রমজান হিসেবে সাব্যস্ত হয়। তবে রমজানের এই পবিত্র মুহূর্তটি ম্লান হয়ে ওঠে অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের আরোপিত কঠোর বিধিনিষেধের কারণে। ইউরো-মেডিটেরিনিয়ান হিউম্যান রাইটস মনিটর জানিয়েছে, রমজানকে কেন্দ্র করে পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, যা উপাসনালয়ে প্রবেশের অধিকারকে মারাত্মকভাবে ব্যাহত করছে। জেরুজালেম গভর্নরেটের তথ্যমতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ফিলিস্তিনিদের আল-আকসায় প্রবেশে বাধা দিতে ২৫০টিরও বেশি আদেশ জারি করা হয়েছে।
ইমাম আটক ও আইনি পটভূমি
উত্তেজনার মধ্যেই আল-আকসা মসজিদের ইমাম শেখ মোহাম্মদ আল-আব্বাসিকে আটক করে ইসরায়েলি পুলিশ, যদিও পরে তাকে মুক্তি দেওয়া হয়। তবে শর্ত হিসেবে তার ওপর মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে ইসরায়েল পূর্ব জেরুজালেম এবং পশ্চিম তীরে তাদের তৎপরতা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি করেছে। ফিলিস্তিনিরা এটিকে ওই ভূখণ্ড দখলের পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) এক ঐতিহাসিক রায়ে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের দখলদারিত্বকে অবৈধ ঘোষণা করে সমস্ত বসতি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিল।