ঝিনাইদহ টার্মিনালে বাসে অগ্নিসংযোগ: ৩টি বাস ভস্মীভূত, নেপথ্যে হত্যাকাণ্ডের জের?
রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে হঠাৎই আগুনের লেলিহান শিখা গ্রাস করল ঝিনাইদহ শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল। শনিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে টার্মিনালে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি যাত্রীবাহী বাস। দুর্বৃত্তদের দেওয়া আগুনে মুহূর্তের মধ্যেই ভস্মীভূত হয় বাসগুলো। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক ও উত্তেজনা।
ঘটনার সময় টার্মিনালে কয়েকটি দূরপাল্লার ও আন্তঃজেলা বাস ছাড়া জনমানব বিশেষ ছিল না। বাস তিনটি পাশাপাশি পার্ক করা অবস্থায় ছিল। জে লাইনের বাস মালিক জাহাঙ্গীর হোসেন আগুনের খবর পেয়েই দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি জানান, টার্মিনালে এসে দেখেন তার বাসসহ তিনটি বাস দাউ দাউ করে জ্বলছে। ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
পুরনো আক্রোশ ও রহস্যের গন্ধ
এই অগ্নিকাণ্ড কি নিছক দুর্ঘটনা, নাকি এর পেছনে রয়েছে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র? ঝিনাইদহ বাস-মিনিবাস পরিচালনা কমিটির সভাপতি রোকনুজ্জামান রানু এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি ঘটনার পেছনের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এনেছেন। জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সৃজনীর হারুন অর রশীদের মালিকানাধীন তেল পাম্পে তেল নেওয়াকে কেন্দ্র করে মারধরের ঘটনায় এক তরুণের মৃত্যু হয়।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত বাসগুলোর মধ্যে ওই মালিক হারুন অর রশীদের একটি বাসও ছিল। প্রশাসনকে এই দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পুলিশের ধারণা, প্রতিশোধ পরায়ণ হয়ে কেউ এই নাশকতা চালিয়ে থাকতে পারে।
এই নাশকতার ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ শুরু করেছে পুলিশ। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সামসুল আরেফিন জানান, কারা বা কী উদ্দেশ্যে এই আগুন দিয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাস মালিকদের অভিযোগের ভিত্তিতে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ।