সর্বশেষ
Loading breaking news...

জুলাই বিপ্লবে সাহসিকতার স্বীকৃতি পেলেন রাবি প্রেস ক্লাবের তিন সাংবাদিক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) প্রেস ক্লাবের তিন সাংবাদিককে তাঁদের পেশাগত সাহসিকতা ও অসামান্য অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের উত্তাল সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সংবাদ পরিবেশনের স্বীকৃতিস্বরূপ এই গৌরব অর্জন করেন তাঁরা। সম্মাননাপ্রাপ্তরা হলেন প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবায়ের জামিল, বর্তমান সভাপতি মনির হোসেন মাহিন এবং সহসভাপতি আশিকুল ইসলাম ধ্রুব। জুলাই আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচি চলাকালে তাঁদের সরাসরি মাঠপর্যায়ের সক্রিয় উপস্থিতি এবং দ্রুত সংবাদ প্রচারের বিষয়টি সর্বত্র বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে। রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী ‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন’-এর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এই বিশেষ আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

প্রতিকূলতায় অবিচল সাংবাদিকতা

এই বিশেষ অনুষ্ঠানটি সদ্য আত্মপ্রকাশ করা ‘আগ্রাসন বিরোধী আন্দোলন’-এর পথচলার এক বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত হয়েছিল। বিপ্লবের ময়দানে যারা কলমকে অস্ত্র বানিয়ে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সরব ছিলেন, তাঁদের সম্মান জানানোই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। আন্দোলন চলাকালীন প্রতিকূল পরিবেশে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা এবং ঘটনাস্থলের বাস্তব চিত্র নিপুণভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁদের অসামান্য ভূমিকা ছিল। আয়োজকরা মনে করেন, এই তিন সাংবাদিকের তথ্য সংগ্রহ ও পরিবেশন জনমত গঠনে এবং শিক্ষার্থীদের মনোবল বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে। প্রতিকূলতার মাঝেও সত্য প্রকাশে অবিচল থাকায় তাঁদের এই ‘সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়েছে।

সাহসের নেপথ্য কারিগর

সম্মাননা গ্রহণের পর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি মনির হোসেন মাহিন গভীর কৃতজ্ঞতা ও আবেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, "জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবার এবং আহতদের স্মরণে এমন একটি আয়োজন করার জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানাই।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সাংবাদিকদের ভূমিকা ছিল অতুলনীয় এবং আজ সেই ত্যাগের মূল্যায়ন করা হলো। মাহিন জানান, আন্দোলন চলাকালীন গোয়েন্দা সংস্থার নানা হয়রানি এবং খাবারের তীব্র সংকট সত্ত্বেও তাঁরা মাঠ ছেড়ে যাননি। তাঁদের এই নিরবচ্ছিন্ন উপস্থিতি শিক্ষার্থীদের মাঝে এক ধরণের বিশেষ সাহস ও অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল বলে তিনি দাবি করেন।

দায়িত্বের নতুন স্মারক

রাবি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি জুবায়ের জামিল এই সম্মানকে কেবল একটি প্রাপ্তি নয় বরং দায়িত্বের এক নতুন স্মারক হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, জুলাই আন্দোলনে মাঠে থেকে দায়িত্ব পালনের এই স্বীকৃতি তাঁদের জন্য একদিকে যেমন গর্বের বিষয়, তেমনই এটি ভবিষ্যতের দায়বদ্ধতা বাড়িয়ে দিয়েছে। তবে আন্দোলনের পর সাংবাদিকদের যেভাবে মূল্যায়ন করা উচিত ছিল, তা এখনো যথাযথভাবে হয়নি বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন তিনি। জামিল মনে করেন, এই ধরণের স্বীকৃতি তরুণ সাংবাদিকদের সত্যের পথে চলতে আরও উৎসাহিত করবে। তিনি এই সম্মাননা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

ভবিষ্যৎ অঙ্গীকার ও শপথ

অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে উপস্থিত বিশিষ্টজনরা সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ লেখনীর মাধ্যমে আগামী দিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানান। তাঁরা বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধরে রাখতে হলে কলমকে সর্বদা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার রাখতে হবে। দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সাংবাদিকদের নির্ভীক অংশগ্রহণ জাতির ক্রান্তিলগ্নে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করে। এই সম্মাননা কেবল তিনজন ব্যক্তির নয়, বরং এটি সমগ্র সংবাদকর্মী সমাজের সাহসিকতার এক অনন্য দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে। পরিশেষে, সবাই মিলে একটি শোষণমুক্ত ও ন্যায়বিচারভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের দীপ্ত শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।

আরও পড়ুন