সর্বশেষ
Loading breaking news...

তেহরানে হামলায় খামেনির উপদেষ্টাসহ শীর্ষ দুই কর্মকর্তা নিহত

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এক ঘটনায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির অন্যতম প্রধান উপদেষ্টা এবং প্রতিরক্ষা পরিষদের সচিব আলী শামখানি নিহত হয়েছেন বলে সরকারি সূত্র নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা। এই ঘটনা তেহরানের নিরাপত্তার জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আইআরজিসি প্রধানের মৃত্যু ও সামরিক শূন্যতা

এই ভয়াবহ হামলায় ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রধান সেনাপতি মোহাম্মদ পাকপুরও নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আলজাজিরাও এই খবর নিজেদের প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে, যা তেহরানের ওপর সরাসরি আঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে। নিহত মোহাম্মদ পাকপুর আইআরজিসির একজন অত্যন্ত অভিজ্ঞ সামরিক ব্যক্তিত্ব ছিলেন। তিনি ২০২৫ সালের জুনে সংঘটিত ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় পূর্বসূরি নিহত হওয়ার পর আইআরজিসির প্রধান সেনাপতির পদে অধিষ্ঠিত হয়েছিলেন।

প্রধান সেনাপতি হওয়ার পূর্বে পাকপুর দীর্ঘ ১৬ বছর ধরে আইআরজিসির স্থল বাহিনীর নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন। ইরান-ইরাক যুদ্ধের দিনগুলোতেও তার অবদান ছিল অবিস্মরণীয়; সে সময় তিনি আইআরজিসির সাঁজোয়া ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং যুদ্ধোত্তরকালে নাজাফ আশরাফের ৮ম ডিভিশন ও আশুরার ৩১তম ডিভিশনের কমান্ডারের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদেও আসীন ছিলেন। তাঁর মৃত্যু ইরানের স্থল যুদ্ধের কৌশলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা শীর্ষ নেতৃত্ব

একইসঙ্গে নিহত হওয়া আলী শামখানিও যুদ্ধের সময় থেকে আয়াতুল্লাহ খামেনির সিনিয়র উপদেষ্টা হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করছিলেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, নিহত এই দুই গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব, অর্থাৎ শামখানি এবং পাকপুর—উভয়ের বিরুদ্ধেই যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা ছিল। এই দ্বৈত ক্ষতি ইরানের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব এবং প্রতিরক্ষা কাঠামোর জন্য এক বিরাট বিপর্যয় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

রাজধানী তেহরানের বুকে এমন হাই-প্রোফাইল হামলার ঘটনা দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। খামেনি ঘনিষ্ঠ এই দুই নেতার মৃত্যুতে ইরানে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং এর প্রতিশোধ নিতে ইরান কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন