বাণিজ্য মেলার জমকালো উদ্বোধন, বর্ষপণ্য হিসেবে 'পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং' এর স্বীকৃতি
পূর্বাচলের বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী প্রদর্শনী কেন্দ্রে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো ৩০তম ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা। প্রধানমন্ত্রী সকালে ফিতা কেটে মেলার শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। এ বছরের মেলার মূল আকর্ষণ হিসেবে 'পেপার অ্যান্ড প্যাকেজিং প্রোডাক্টস' বা কাগজ ও মোড়কজাতকরণ পণ্যকে 'বর্ষপণ্য ২০২৬' হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। রপ্তানি বহুমুখীকরণের লক্ষ্যে এবং পরিবেশবান্ধব পণ্যের প্রসারে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী।
রপ্তানি বৃদ্ধিতে নতুন সম্ভাবনা
উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তৈরি পোশাকের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে আমাদের অন্যান্য খাতের দিকেও নজর দিতে হবে। কাগজ ও প্যাকেজিং শিল্পে বাংলাদেশের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে, যা বিশ্ববাজারে আমাদের অবস্থান আরও শক্ত করতে পারে। তিনি ব্যবসায়ীদের এই খাতের মান উন্নয়নে এবং আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্স মেনে চলার আহ্বান জানান। সরকার এই শিল্পের বিকাশে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
মেলায় দর্শনার্থীদের ভিড়
উদ্বোধনের পরপরই মেলা প্রাঙ্গণ সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়। ছুটির দিন হওয়ায় সকাল থেকেই মেলায় মানুষের ঢল নামে। দেশি-বিদেশি কয়েকশ স্টলে নানা রঙের পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। বিশেষ করে গৃহস্থালি পণ্য, টেক্সটাইল এবং হস্তশিল্পের স্টলগুলোতে ক্রেতাদের আগ্রহ বেশি দেখা গেছে। এবারের মেলায় যাতায়াতের জন্য বিআরটিসির বিশেষ বাস সার্ভিসের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা
মেলা প্রাঙ্গণের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ, র্যাব ও আনসার সদস্যদের সমন্বয়ে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভির আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়াও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবার জন্য মেডিকেল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। আয়োজকরা জানিয়েছেন, গতবারের তুলনায় এবার মেলার পরিসর বাড়ানো হয়েছে এবং দর্শনার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
অর্থনৈতিক অগ্রগতির প্রতীক
বাণিজ্য মন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন, এই মেলা শুধু পণ্য কেনাবেচার স্থান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতার প্রতীক। বিদেশি ক্রেতাদের কাছে দেশীয় পণ্য তুলে ধরার এটি একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। এবার ভারত, চীন, তুরস্ক, ইরানসহ বেশ কয়েকটি দেশের ব্যবসায়ীরা মেলায় অংশ নিচ্ছেন। মাসব্যাপী এই মেলা দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।