খামেনি হত্যার দায় স্বীকার ট্রাম্পের: ‘আঘাত হানার আগেই তাকে শেষ করেছি’
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর খবরের মধ্যেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেছেন, খামেনি তাকে হত্যার পরিকল্পনা করছিলেন, কিন্তু তার আগেই তিনি ‘আঘাত’ হেনেছেন। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, তিনি খামেনিকে ‘শেষ করে দিয়েছেন’। এই মন্তব্য বিশ্বজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনার পারদ নতুন করে বাড়িয়ে দিয়েছে এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বৈরি আবহাওয়াকে আরও ঘোলাটে করেছে।
সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা (ইরান) দুবার চেষ্টা করেছিল আমাকে হত্যা করার। কিন্তু আমি আগেই আঘাত করেছি।’ বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই বক্তব্যে ২০২৪ সালে তার ওপর কথিত ইরান-সংশ্লিষ্ট হত্যাচেষ্টার প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। তবে খামেনির মৃত্যুর অব্যবহিত পরে এমন সরাসরি দায় স্বীকার বা কৃতিত্ব দাবি করা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে, তখন ট্রাম্পের এই উক্তি আগ্নেয়গিরিতে ঘি ঢালার মতো কাজ করতে পারে।
ইরানে রাষ্ট্রীয় শোক ও ছুটির ঘোষণা
এদিকে, ইরান সরকার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যু আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির পাশাপাশি খামেনির মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম ও ফার্স নিউজ। এই ঘটনার পর ইরানে সাত দিনের সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়াত নেতার সম্মানে ৪০ দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোক পালনের নির্দেশ জারি করেছে তেহরান।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতার মৃত্যু দেশটির অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গভীর শূন্যতা সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এই অভিযানের পর ইরানজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, পাশাপাশি প্রতিশোধের স্পৃহাও বাড়ছে। ইরানি কর্মকর্তারা একে ‘কাপুরুষোচিত হামলা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানের প্রতিক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে শঙ্কিত আন্তর্জাতিক মহল। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যকে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে পারে।
আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা পরিস্থিতির ওপর সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন। খামেনির মৃত্যু এবং ট্রাম্পের এই দাবির পর ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা এখন চরমে। আগামী দিনগুলোতে ইরান কীভাবে এই হত্যাকাণ্ডের জবাব দেয় এবং নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের মাধ্যমে পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। তবে ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে চলা স্নায়ুযুদ্ধ এখন প্রকাশ্য সামরিক ও রাজনৈতিক দ্বন্দ্বে রূপ নিয়েছে।