সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানে মৃত্যুদণ্ড বন্ধের দাবিতে ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর তথ্য ও তেহরানের কড়া হুঁশিয়ারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর সহিংসতা ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়া বর্তমানে পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তবে একই সময়ে ইরান সরকার বিক্ষোভ দমনে দ্রুত বিচার এবং কঠোর শাস্তির পথে অবিচল থাকার বার্তা দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের এই বিতর্কিত দাবির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে বর্তমানে ব্যাপক উদ্বেগ কাজ করছে।

ট্রাম্পের চাঞ্চল্যকর দাবি

বুধবার সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে তিনি বিশেষ "বিশ্বস্ত সূত্র" থেকে ইরানে হত্যাকাণ্ডের প্রক্রিয়া বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। তিনি আরও দাবি করেন যে বিক্ষোভকারী কোনো নেতা বা সাধারণ কর্মীকে এখন আর মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা তেহরানের নেই। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার এই স্পর্শকাতর দাবির পক্ষে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ বা বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে উপস্থাপন করেননি। এর আগে তিনি ইরানের বিক্ষোভকারীদের প্রতি প্রচ্ছন্ন সহায়তার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যা নিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে নানা জল্পনা চলছে।

তেহরানের পাল্টা অভিযোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই বক্তব্যের বিপরীতে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি অভিযোগ করেছেন যে ইসরায়েল সবসময় মার্কিন স্বার্থ রক্ষা করতে তাদের যুদ্ধে জড়ানোর পাঁয়তারা করছে। আরাগচির দাবি অনুযায়ী ইরানের রাজপথ বর্তমানে বিক্ষোভকারীদের রক্তে রঞ্জিত এবং ইসরায়েল সরাসরি অস্ত্র সরবরাহ করে শতাধিক মানুষের মৃত্যুর কারণ হয়েছে। এই পরিস্থিতির জন্য তেহরান সরাসরি পশ্চিমী শক্তি ও ইসরায়েলি হস্তক্ষেপকে দায়ী করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সামরিক সংঘাতের হুঁশিয়ারি

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার উপদেষ্টা আলী শামখানি এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানাতে দ্বিধা করেননি। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে গত জুন মাসে কাতারের আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের চালানো হামলা তাদের সক্ষমতার বড় প্রমাণ। শামখানি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে যেকোনো ধরনের বহিঃশত্রুর আক্রমণের যোগ্য জবাব দেওয়ার সক্ষমতা এবং ইচ্ছা ইরানের বর্তমান নেতৃত্বের রয়েছে। ইরানের এই সামরিক অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার ছায়া

উল্লেখ্য যে গত বছর ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে দীর্ঘদিনের বৈরী সম্পর্কের জেরে ১২ দিনব্যাপী একটি ভয়াবহ সামরিক সংঘাত হয়েছিল। সেই সময় উভয় পক্ষ একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। বর্তমানের এই নতুন উত্তেজনা মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর কোনো আঞ্চলিক যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তেহরান তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনো প্রকার "বৈদেশিক হস্তক্ষেপ" সহ্য করা হবে না বলে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা প্রদান করেছে।

আরও পড়ুন