সর্বশেষ
Loading breaking news...

মাদুরোর পতনের পর নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ দাবি করলেন ট্রাম্প

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটকের পরেই এক অভূতপূর্ব ঘটনার জন্ম দিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ তিনি নিজেকে ভেনেজুয়েলার ‘ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করে বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন। গভীর রাতে ঘটা এই রাজনৈতিক পালাবদলের মুহূর্তে ট্রাম্পের এমন দাবি আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।

উইকিপিডিয়ার আদলে বিভ্রান্তিকর বার্তা

রবিবার ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি সম্পাদিত ছবি পোস্ট করেন, যা দেখতে হুবহু উইকিপিডিয়া পৃষ্ঠার মতো। সেখানে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তিনি ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকে ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করছেন। যদিও এই দাবির কোনো আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নেই এবং উইকিপিডিয়ার মূল পাতায় এমন কোনো তথ্য যুক্ত হয়নি, তবুও বিশ্লেষকরা একে নিছক ব্যঙ্গাত্মক বা রাজনৈতিক ইঙ্গিতপূর্ণ কৌশল হিসেবেই দেখছেন।

তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ ও মার্কিন ছক

এদিকে ভেনেজুয়েলার প্রকৃত রাজনৈতিক চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন; মাদুরো আটকের পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে আনুষ্ঠানিকভাবে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে ট্রাম্প ও মার্কিন প্রশাসন বারবার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, দেশটির শাসনভার যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানেই চলবে। এর আগে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও স্পষ্ট জানিয়েছিলেন যে, যুক্তরাষ্ট্র সাময়িকভাবে ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেবে এবং সরকার গঠনে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে।

ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের প্রকাশ্য রূপ

রুবিও অবশ্য আশ্বাস দিয়েছেন যে, পরবর্তী উপযুক্ত সময়ে ভেনেজুয়েলার তেল সম্পদের মালিকানা দেশটির নির্বাচিত সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হবে। কিন্তু ট্রাম্পের এই স্বঘোষিত পদবি এবং মার্কিন প্রশাসনের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের ঘোষণা একই সূত্রে গাঁথা বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা। তাঁদের মতে, ভেনেজুয়েলার অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং ক্ষমতার মসনদে ওয়াশিংটনের প্রভাব বিস্তারের এটি একটি নগ্ন প্রয়াস।

নতুন মেরুকরণে কূটনৈতিক উদ্বেগ

মাদুরো সরকারের পতনের পর ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ কোন দিকে যাচ্ছে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও ঘনীভূত হয়েছে। ট্রাম্পের এমন অদ্ভুত দাবি এবং যুক্তরাষ্ট্রের তেল সম্পদ নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা লাতিন আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। বিশ্বনেতারা এখন তাকিয়ে আছেন ভেনেজুয়েলার পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে, যেখানে ওয়াশিংটনের ‘সুদূরপ্রসারী কৌশল’ দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

আরও পড়ুন