সর্বশেষ
Loading breaking news...

ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়া ও চীনকে রুখতে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ গ্রিনল্যান্ড দখল করতে চান

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপ গ্রিনল্যান্ডের মালিকানা নিয়ে তাঁর সুপ্ত আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি এবার সরাসরি জানিয়েছেন যে রাশিয়া ও চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ঠেকাতে এই অঞ্চলটি আমেরিকার জন্য অপরিহার্য। হোয়াইট হাউসে তেল কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক রুদ্ধদ্বার বৈঠকে ট্রাম্প এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। তাঁর এমন বক্তব্যে বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে এবং মিত্রদের মধ্যে উদ্বেগ বেড়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক নতুন সমীকরণ

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মতে আমেরিকা যদি এখনই কোনো শক্ত পদক্ষেপ না নেয় তবে গ্রিনল্যান্ড অন্যের দখলে চলে যাবে। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে ওয়াশিংটন চায় না রাশিয়া বা চীন তাদের কোনোভাবে প্রতিবেশী হয়ে উঠুক। ১৯৫১ সালের চুক্তি অনুযায়ী সেখানে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকলেও ট্রাম্প সেটিকে যথেষ্ট বলে মনে করছেন না। তাঁর দাবি কেবল ইজারা বা চুক্তির মাধ্যমে প্রকৃত নিরাপত্তা ও মার্কিন স্বার্থ রক্ষা সম্ভব নয়।

ডেনমার্কের কড়া হুঁশিয়ারি

ট্রাম্পের এই অযাচিত বক্তব্যের পর স্বায়ত্তশাসিত গ্রিনল্যান্ডের অভিভাবক দেশ ডেনমার্ক অত্যন্ত কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছে। প্রায় ৫৭ হাজার জনসংখ্যার এই শান্ত অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্ক কোনো প্রকার আপস করতে নারাজ। ডেনমার্ক সরকার সতর্ক করে বলেছে যে জোর করে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হলে তার পরিণাম ভয়াবহ হবে। এই বিষয়টি নিয়ে বর্তমানে ন্যাটো জোটের ভেতরেও এক ধরণের বড় অস্বস্তি ও দ্বিধা তৈরি হয়েছে।

ইউরোপীয় মিত্রদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান

পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য এক যৌথ বিবৃতিতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের নিরঙ্কুশ অধিকার কেবল সেখানকার বাসিন্দা ও ডেনমার্কেরই আছে। এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন গ্রিনল্যান্ড দখলের জন্য সামরিক শক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনাও প্রাথমিক পর্যালোচনার টেবিলে রেখেছে। একইসঙ্গে সেখানকার স্থানীয় বাসিন্দাদের বিপুল আর্থিক প্রলোভন দেখানোর মতো কৌশলী পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে।

বিশ্ব নিরাপত্তার ঝুঁকি

ট্রাম্পের এই আকাঙ্ক্ষা কেবল একটি ভূখণ্ডের মালিকানা নয় বরং এটি
উত্তর মেরুর নিয়ন্ত্রণের লড়াই
হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন এমন একতরফা সিদ্ধান্ত নিলে রাশিয়ার সঙ্গে আমেরিকার সরাসরি সংঘাতের পথ আরও সুগম হবে। গ্রিনল্যান্ডের কৌশলগত অবস্থান একে বর্তমান আধুনিক যুদ্ধবিদ্যায় এক গুরুত্বপূর্ণ মহড়ায় পরিণত করেছে। এখন দেখার বিষয় মার্কিন প্রশাসন তাদের এই বিতর্কিত লক্ষ্য অর্জনে শেষ পর্যন্ত কতদূর অগ্রসর হয়।

আরও পড়ুন