সর্বশেষ
Loading breaking news...

প্রয়োজনে ইরানে স্থল অভিযান: ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারি

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়ানোর পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতির মধ্যেই এবার আরও কঠোর বার্তা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পরিস্থিতির ‘প্রয়োজন’ হলে ইরানে স্থলবাহিনী বা ‘গ্রাউন্ড ফোর্স’ পাঠাতে তিনি বিন্দুমাত্র দ্বিধা করবেন না। সোমবার ‘নিউইয়র্ক পোস্ট’ পত্রিকাকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পের এই মন্তব্য যুদ্ধের গতিপথ সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

রণকৌশলে আমূল পরিবর্তনের ইঙ্গিত

প্রথাগত মার্কিন নীতির বাইরে গিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের মতো আগাম কোনো প্রতিশ্রুতিতে বিশ্বাসী নন। তাঁর কথায়, “অন্য সব প্রেসিডেন্টদের মতো আমি অন্তত বলি না যে, স্থলভাগে কোনও সৈন্য মোতায়েন করা হবে না।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, যদি প্রয়োজন না থাকে তবে পাঠানো হবে না, কিন্তু যদি পরিস্থিতির দাবি ওঠে, তবে মার্কিন বুট ইরানের মাটিতে পড়তে সময় নেবে না। পেন্টাগন থেকেও একই সুর শোনা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, বর্তমানে ইরানে কোনো মার্কিন সেনা নেই, কিন্তু ভবিষ্যতে সেই সম্ভাবনা নাকচ করা যাচ্ছে না।

এই আকস্মিক হামলার পেছনের কারণ হিসেবে উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর গোয়েন্দা তথ্য। ট্রাম্প জানান, জেনিভায় আলোচনার টেবিলে ইরান উপস্থিত থাকলেও গোপনে তারা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি স্থানে পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছিল। আলোচনার নাটক সাজিয়ে ইরান পিছু হটেছিল, যা তাদের পুরনো কৌশল। এরপরেই গত বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের সঙ্গে যৌথ হামলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, এই অভিযানে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ ৪৯ জন শীর্ষ নেতা ও কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন।

যুদ্ধ কতদিন চলতে পারে, তা নিয়েও জল্পনার অবসান ঘটিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রথমে ‘ডেইলি মেইল’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি চার সপ্তাহের কথা উল্লেখ করলেও, সোমবার তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে অভিযানের সময়সীমা আরও কম হতে পারে। তিনি আশাবাদী, এই অভিযান অত্যন্ত দ্রুত ও ক্ষিপ্রগতিতে সম্পন্ন হবে।

অন্যদিকে, শীর্ষ নেতাদের হারানোর শোকে ইরানও বসে নেই; পাল্টা জবাবে ওই অঞ্চলের মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে তারা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে পরিস্থিতি এখন চূড়ান্ত সংঘাতের দিকেই মোড় নিচ্ছে।

আরও পড়ুন