ইরানের মিত্রদের উপর ট্রাম্পের চূড়ান্ত শুল্ক আরোপ: উত্তেজনা বৃদ্ধি পাচ্ছে
তীব্র উত্তেজনার আবহে মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন মোড় নিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনকারী দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা করেছেন। তিনি এক পোস্টে নিশ্চিত করেন যে, এই নতুন শুল্কহার অবিলম্বে কার্যকর হবে এবং এটিকে "চূড়ান্ত ও অপরিবর্তনীয়" বলে অভিহিত করেছেন। আন্তর্জাতিক মহলের ধারণা, ইরান জুড়ে চলা সরকারবিরোধী আন্দোলনের মধ্যেই তেহরানের উপর চাপ বাড়াতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও মার্কিন হুঁশিয়ারি
এদিকে, ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলন ভয়াবহ প্রাণহানীর কারণ হয়েছে। নরওয়েভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআরএনজিও) জানিয়েছে, গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া সহিংসতায় অন্তত ৬৫০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ১৮ বছরের কমবয়সী ৯ জনও রয়েছে। এই প্রাণঘাতী আন্দোলনকে কেন্দ্র করেই ওয়াশিংটন ও তেহরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে চরম বাকযুদ্ধ দেখা দিয়েছে।
খামেনির পাল্টা জবাব
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন যে, বিক্ষোভকারীদের হত্যা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শক্ত বিকল্প’ বিবেচনা করছে। তাঁর এই হুমকির জবাবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি মার্কিন রাজনীতিকদের ‘প্রতারণা বন্ধ করার’ আহ্বান জানান। একইসঙ্গে তিনি ইরানে অনুষ্ঠিত রাষ্ট্র-সমর্থিত সরকারপন্থী সমাবেশগুলোর প্রশংসাও করেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।
আকাশপথে হামলার সম্ভাবনা
হোয়াইট হাউস থেকে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হতে পারে এমন ইঙ্গিত মিলেছে। মুখপাত্র কারোলিন লেভিট সাংবাদিকদের জানান, ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখনো ‘অনেক বিকল্প’ খোলা রয়েছে। এর মধ্যে ‘আকাশপথে হামলা’ একটি সম্ভাব্য অপশন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে অস্থিরতা সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে।
ট্রাম্পের কঠিন রাজনৈতিক চাল
বিবিসির কূটনৈতিক সংবাদদাতা পল অ্যাডামসের বিশ্লেষণে এক কঠিন রাজনৈতিক পরিস্থিতি উঠে এসেছে। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বর্তমানে এক উভয় সংকটের মুখে পড়েছেন। একদিকে হুমকি কার্যকর না করলে তাকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল হিসেবে দেখা হতে পারে, অন্যদিকে সরাসরি হস্তক্ষেপ করলে তা সমগ্র অঞ্চলজুড়ে এক বৃহৎ সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এই পরিস্থিতি বৈশ্বিক স্থিতিশীলতার জন্য উদ্বেগের কারণ।