২ হাজার মৃত্যুর সরকারি স্বীকারোক্তির মাঝেই ইরান দখলের ডাক দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প
ইরানে চলমান অস্থিরতার আগুনে নতুন করে ঘি ঢেলেছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বিক্ষোভকারীদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প সরাসরি বার্তা দিয়ে বলেছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের এই ক্রান্তিকালে সহায়তার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। তাঁর এই বিস্ফোরক মন্তব্য বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
ট্রাম্পের এই আহ্বানের মধ্যেই প্রথমবারের মতো বিক্ষোভের ভয়াবহতা নিয়ে মুখ খুলেছে ইরান সরকার। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে দেশটির এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বিক্ষোভে প্রায় ২ হাজার মানুষের মৃত্যুর কথা স্বীকার করেছেন। এটিই প্রথমবার যখন ইরানি কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এত বিপুল সংখ্যক প্রাণহানির কথা বিশ্বের কাছে তুলে ধরল। তবে ওই সরকারি কর্মকর্তা এই নির্বিচার মৃত্যুর জন্য অজ্ঞাতনামা "সন্ত্রাসীদের" সরাসরি দায়ী করেছেন।
ভয়াবহ মৃত্যুর মিছিল
অন্যদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষায় ইরানি কর্মকর্তাদের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন যে বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ না হলে সব ধরনের বৈঠক বাতিল করা হবে। শুধু তাই নয়, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকিও দিয়েছেন তিনি। এছাড়া প্রয়োজনে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি এই প্রভাবশালী মার্কিন নেতা।
পর্দার আড়ালে কূটনীতি
তবে চরম উত্তেজনার এই আবহেও ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন যে বিক্ষোভ চলাকালীনও মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ ছিল। তিনি আরও দাবি করেন যে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দেওয়া কিছু বিশেষ প্রস্তাব বর্তমানে তেহরান গুরুত্বের সাথে পর্যালোচনা করছে। এই স্বীকারোক্তি দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কের এক জটিল এবং ধোঁয়াশাপূর্ণ সমীকরণকে সামনে নিয়ে এসেছে।
উত্তপ্ত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি
বর্তমানে ইরান এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সম্পর্ক এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ধাবিত হচ্ছে। একদিকে ট্রাম্পের কঠোর অবস্থান এবং অন্যদিকে তেহরানের নমনীয় সুর আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের ভাবিয়ে তুলছে। বিক্ষোভের এই কঠিন সময়ে "দুই হাজার মানুষের মৃত্যু" পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দিয়েছে। আগামী দিনগুলোতে এই অঞ্চলে শান্তি নাকি নতুন কোনো সংঘাত শুরু হবে তা এখন দেখার বিষয়। মার্কিন প্রস্তাবের ওপর তেহরানের সিদ্ধান্তই মূলত ভবিষ্যতের গতিপথ নির্ধারণ করে দেবে।