সর্বশেষ
Loading breaking news...

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কালো মেঘ: ট্রাম্পের কড়া হুঁশিয়ারি ও ওমানের নেপথ্য তৎপরতা

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের বর্তমান পারমাণবিক কর্মকাণ্ডে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তেহরানের সঙ্গে চলমান আলোচনাকে 'অসৎ' হিসেবে অভিহিত করে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দেন যে, প্রয়োজনে সামরিক শক্তি প্রয়োগ কিংবা সরকার পরিবর্তনের মতো কঠোর বিকল্পগুলো এখনো তাঁর টেবিল থেকে সরে যায়নি। যদিও তিনি কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে চান, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে কোনো আপস করবেন না বলে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন।

শান্তির শেষ প্রদীপ না কি কূটনীতির গোলকধাঁধা?

জেনেভায় অনুষ্ঠিত যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সাম্প্রতিক বৈঠকটি কোনো কার্যকর ফলাফল ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থার মধ্যেই আশার আলো দেখছেন ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদি। মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় থাকা আলবুসাইদি দাবি করেছেন, আলোচনায় অভাবনীয় অগ্রগতি হয়েছে এবং একটি ঐতিহাসিক শান্তিচুক্তি এখন হাতের নাগালে। তাঁর মতে, ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে এবং জাতিসংঘের পারমাণবিক শক্তি সংস্থাকে পূর্ণ প্রবেশাধিকার দিতে রাজি হয়েছে। তবে মুদ্রার উল্টো পিঠ বলছে অন্য কথা; তেহরান এখনো তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ৪০০ কেজি ইউরেনিয়াম দেশের বাইরে পাঠাতে অনড় অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছে।

কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যে সমরসজ্জাও তুঙ্গে তুলেছে ওয়াশিংটন। ইতিমধ্যেই দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ একটি শক্তিশালী নৌবহর ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে, যা যেকোনো মুহূর্তে হামলার জন্য প্রস্তুত। অন্যদিকে, নিরাপত্তাজনিত কারণে ইসরায়েল থেকে অপ্রয়োজনীয় সরকারি কর্মকর্তাদের ও তাঁদের পরিবারকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে রুদ্ধদ্বার বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে।

রণসজ্জা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এক সাক্ষাৎকারে অতীতের ভুলের পুনরাবৃত্তি এড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিলেও প্রয়োজনে সীমিত পর্যায়ে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেননি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (আইএইএ) জানিয়েছে, ইরানের কিছু স্থাপনায় সন্দেহজনক কার্যক্রম চললেও সরাসরি প্রবেশাধিকার না থাকায় প্রকৃত সত্য নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না।

আগামী সপ্তাহে ভিয়েনায় সংস্থাটির সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিতব্য কারিগরি পর্যায়ের বৈঠকটিই হয়তো ঠিক করে দেবে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ—শান্তির পথে যাবে, না কি রণক্ষেত্রে পরিণত হবে। ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি এবং সামরিক প্রস্তুতির মুখে বিশ্ব এখন শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির দিকে তাকিয়ে আছে।

আরও পড়ুন