ইরান ইস্যুতে 'বড় সিদ্ধান্তের' পথে ট্রাম্প: বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উত্তেজনা
ইরান নিয়ে একটি ‘বড় সিদ্ধান্ত’ নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো আশানুরূপ ফল দিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইরান প্রসঙ্গে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে—তা নিয়ে গভীর সংকটে পড়েছেন তিনি। সিএনএনের এক বিশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাসের করপাস ক্রিস্টিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প নিজেই এই কঠোর বার্তা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
কূটনীতির কানাগলি ও কঠিন চ্যালেঞ্জ
জ্বালানি সংক্রান্ত এক সভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘আমাদের সামনে একটি বিশাল সিদ্ধান্তের সময় এসেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা মোটেও সহজ কোনো কাজ নয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ‘অসৎ ও নেতিবাচক’ কর্মকাণ্ডে লিপ্ত রয়েছে। ট্রাম্পের মতে, পরিস্থিতি এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে কঠোর কোনো অবস্থান নেওয়া ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই। তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট যে, ওয়াশিংটন আর ধৈর্যের পরিচয় দিতে নারাজ।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও উল্লেখ করেন যে, গত কয়েক দশকে ইরানের আচরণে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আসেনি। বরং তারা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার পায়তারা করে আসছে। এই অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের এবং মিত্রদের স্বার্থ রক্ষায় চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ নিতে হতে পারে বলে তিনি সতর্ক করে দেন।
৪৭ বছরের তিক্ততা ও নতুন সমীকরণ
দীর্ঘ প্রায় ৪৭ বছর ধরে ইরান অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে বলে দাবি করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, ইরান একটি নতুন চুক্তি করতে আগ্রহী হলেও সেটি হতে হবে অত্যন্ত ‘অর্থবহ’। টেক্সাসে যাওয়ার পথে এয়ারফোর্স ওয়ানে থাকাকালীন তিনি দুই প্রভাবশালী রিপাবলিকান সিনেটর টেড ক্রুজ এবং জন করনিনের সাথেও এই সংবেদনশীল বিষয়টি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করেছেন।
শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংকট সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করলেও ট্রাম্প তার বক্তব্যে প্রতিপক্ষের অনমনীয় মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমি সবসময় শান্তির পথেই এগোতে চাই, কিন্তু তারা অত্যন্ত কঠিন মানুষ।’ এখন বিশ্ববাসীর নজর ওয়াশিংটনের সেই ‘বড় সিদ্ধান্তের’ দিকে, যা মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে নতুন কোনো ঝড়ের আভাস দিচ্ছে কি না, তা সময়ই বলে দেবে।