সর্বশেষ
Loading breaking news...

খামেনি জমানার অবসান: বোমার শব্দের মাঝেই ট্রাম্পের মুখে হঠাৎ ‘সমঝোতা’র সুর

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ যখন বারুদের গন্ধে ভারী, ঠিক তখনই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শোনালেন এক ভিন্ন সুর। আঞ্চলিক উত্তেজনা যখন তুঙ্গে, তখন ট্রাম্প দাবি করলেন—ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক বরফ গলানো এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ। একদিকে সামরিক অভিযানের তীব্রতা, আর অন্যদিকে হঠাৎ নমনীয়তার ইঙ্গিত; ট্রাম্পের এই দ্বিমুখী কৌশল আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

ধ্বংসস্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে শান্তির ডাক?

শনিবার দিনভর সংবাদমাধ্যমের সামনে সরাসরি না এলেও বিভিন্ন মার্কিন টেলিভিশন নেটওয়ার্কে টেলিফোনে যুক্ত হয়ে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খোলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সিবিএস নিউজের বব কস্তাকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক অভিযান অত্যন্ত সফলভাবে লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, মাত্র একদিন আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমানের আকাশ-পাতাল তফাত। ইরান এখন এতটাই কোণঠাসা এবং বিপর্যস্ত যে, কূটনৈতিক সমঝোতার পথ তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ট্রাম্পের বিশ্বাস, এই প্রচণ্ড সামরিক চাপই শেষ পর্যন্ত তেহরানকে আলোচনার টেবিলে বসতে বাধ্য করবে।

রহস্যের ধোঁয়াশা ও ট্রাম্পের ‘পছন্দের’ তালিকা

আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর বিষয়টি স্বয়ং ট্রাম্প নিশ্চিত করলেও, তেহরানের পক্ষ থেকে এখনো পরবর্তী নেতার নাম বা আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। খামেনির অবর্তমানে কে ধরবেন ইরানের হাল—এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প সরাসরি কোনো নাম উল্লেখ করেননি। তবে তাঁর কথায় ছিল গভীর রাজনৈতিক ইঙ্গিত। তিনি স্পষ্ট বুঝিয়ে দিয়েছেন, ইরানের ক্ষমতায় দেখার মতো বেশ কিছু ‘যোগ্য প্রার্থী’ তাঁর নজরে রয়েছে, যাদের প্রতি ওয়াশিংটনের প্রচ্ছন্ন সমর্থন থাকতে পারে।

ঘটনার প্রেক্ষাপট পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, চলতি সপ্তাহে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সর্বশেষ ধাপ কোনো ফলাফল ছাড়াই ভেস্তে যায়। এর পরপরই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে আসে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি, যা এখন পূর্ণাঙ্গ হামলায় রূপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউস সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যতক্ষণ না ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি ও আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে ওয়াশিংটনের শর্ত মেনে নিচ্ছে, ততক্ষণ এই সামরিক সাঁড়াশি আক্রমণ অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুন