পাক-আফগান দ্বন্দ্বে ট্রাম্পের ‘নো-ইন্টারফেয়ারেন্স’ বার্তা ও প্রশংসা
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সীমান্ত সংঘাতের মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক তাৎপর্যপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন। তিনি এই দ্বন্দ্বে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের নেতৃত্বের প্রশংসা করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
বন্ধুত্বের দোহাই দিয়ে দূরে থাকার কৌশল
হোয়াইট হাউসের সাউথ লনে সাংবাদিকদের ট্রাম্প জানান যে, পাকিস্তানের সাথে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পর্ক খুবই ভালো। তিনি বলেন, “আমি হস্তক্ষেপ করতে পারতাম, কিন্তু পাকিস্তানের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও জেনারেল খুবই দক্ষ নেতা। পাকিস্তান এখন ভালো করছে এবং আমি তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।” ট্রাম্পের এই নীতিগত দূরত্ব বজায় রাখা কার্যত পাকিস্তানের সার্বভৌমত্বের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন পাকিস্তান কাবুলে বড় ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছে। পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানিয়েছেন যে, কান্দাহার ও পাক্তিয়া প্রদেশে তালেবান সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালিত হয়েছে। এই অভিযানে শতাধিক আফগান তালেবান যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে দাবি করেছে পাকিস্তান সরকার।
ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণ ও ভবিষ্যৎ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই প্রশংসা শেহবাজ শরিফ সরকারের জন্য বড় ধরনের নৈতিক সমর্থন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন সংঘাত থেকে নিজেকে সরিয়ে রেখে পাকিস্তানি নেতৃত্বের জয়গান গাইছেন, তখন তালেবান প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বৃদ্ধি পাবে। আফগানিস্তানও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাধ্যমে পাল্টা জবাব দিচ্ছে, যা সীমান্তে উত্তাপ ছড়াচ্ছে।
দুই পক্ষের মধ্যে চলমান এই যুদ্ধে হতাহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা থাকলেও ওয়াশিংটন এই মুহূর্তে মধ্যস্থতার চেয়ে পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থানকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। ট্রাম্পের 'নো-ইন্টারফেয়ারেন্স' নীতি পাকিস্তান-মার্কিন সম্পর্কের নতুন দিক উন্মোচন করতে পারে। পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে বিশ্ব সম্প্রদায়।