সর্বশেষ
Loading breaking news...

সুপ্রিম রায়কে ‘লজ্জাজনক’ বললেন ট্রাম্প, শুল্কযুদ্ধে বিকল্প আইনের হুঙ্কার

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মার্কিন রাজনীতিতে আবারও চরম নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। দেশের সর্বোচ্চ আদালতের রায়কে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ৬-৩ ব্যবধানে সুপ্রিম কোর্ট তাঁর গ্লোবাল শুল্ক নীতি বাতিল ঘোষণা করলেও সেই রায় মেনে নিতে নারাজ তিনি। উল্টে আদালতের এই রায়কে ‘জাতির জন্য লজ্জাজনক’ বলে আখ্যায়িত করে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প।

বিচারকদের প্রতি বিষোদগার ও বিদেশি ষড়যন্ত্রের তত্ত্ব

শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প অভিযোগ করেন, আদালতের এই সিদ্ধান্তের পেছনে কলকাঠি নেড়েছে বিদেশি স্বার্থ। তিনি আদালতের উদারপন্থী বিচারকদের কঠোর সমালোচনা করে তাঁদের ‘জাতির লজ্জা’ বলে অভিহিত করেন। এমনকি যে রক্ষণশীল বিচারকরা এই রায়ের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তাঁদেরকেও ‘অসাংবিধানিক ও অরাজনৈতিক’ বলে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি তিনি। তাঁর সাফ কথা, এই রায় আমেরিকার জন্য অপমানজনক এবং এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।

পুরনো আইনে নতুন চাল: ট্রাম্পের ‘প্ল্যান বি’

সুপ্রিম কোর্ট শুল্ক নীতিকে অবৈধ ঘোষণা করলেও নিজের অবস্থানে অনড় ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, শুল্ক আরোপের সিদ্ধান্ত থেকে তিনি একচুলও সরবেন না। তাঁর তুরুপের তাস এখন ১৯৬২ সালের ‘ট্রেড এক্সপ্যানশন অ্যাক্ট’। ট্রাম্পের দাবি, এই আইনের আওতায় শুল্ক আরোপের পূর্ণ আইনি অধিকার তাঁর রয়েছে এবং সর্বদা ছিল। আদালতের রায় তাঁকে থামাতে পারবে না বলেই হুঙ্কার দিয়েছেন তিনি।

প্রেসিডেন্টের এই অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্প প্রশাসন ও বিচার বিভাগের মধ্যকার ফাটলকে আরও চওড়া করে দিয়েছে। বিরোধীরা একে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ওপর নগ্ন হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন; অন্যদিকে ট্রাম্প অনুগামীদের দাবি—এই রায়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। ক্ষমতার এই দ্বন্দ্বে মার্কিন গণতন্ত্রের ভারসাম্য নতুন পরীক্ষার মুখে পড়েছে।

তবে ট্রাম্পের এই জেদ ভবিষ্যতে নতুন কোনো আইনি জটিলতার জন্ম দেয় কি না এবং শেষ পর্যন্ত তিনি পিছু না হটলে বিশ্ববাণিজ্যে কী প্রভাব পড়ে—সেটাই এখন দেখার বিষয়। বিকল্প আইন ব্যবহারের মাধ্যমে ট্রাম্প তাঁর শুল্কনীতি বাস্তবায়ন করতে পারলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের সমীকরণে বড় ধরণের পরিবর্তন আনতে পারে।

আরও পড়ুন