সর্বশেষ
Loading breaking news...

ট্রাম্পের হুঙ্কারে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের দামামা এবং ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের চূড়ান্ত সামরিক ছক

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি রহস্যময় বার্তার পর মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা এক নতুন মাত্রা পেয়েছে যা আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে তাদের চূড়ান্ত সামরিক ছক তৈরি করছে বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবরে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে ‘সাহায্য আসছে’—ট্রাম্পের এই বার্তাটি সম্ভবত বড় কোনো সামরিক অভিযানের পূর্বাভাস হতে পারে। এই পরিস্থিতির ফলে মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে থাকা মার্কিন সামরিক নেটওয়ার্কগুলোতে বর্তমানে ব্যাপক তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। পেন্টাগন এখন পর্যন্ত এই পরিকল্পনার কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ না করলেও যুদ্ধপ্রস্তুতির আলামত স্পষ্ট।

ঘাঁটি জুড়ে প্রস্তুতি

কাতার, বাহরাইন এবং কুয়েতসহ মধ্যপ্রাচ্যের আটটি দেশে যুক্তরাষ্ট্রের বিশাল সামরিক ঘাঁটি ও শক্তিশালী নেটওয়ার্ক বিদ্যমান রয়েছে। বিশেষ করে কাতারের আল-উদেইদ বিমানঘাঁটি কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যেখানে প্রায় দশ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকে। সম্প্রতি কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে যে এই ঘাঁটি থেকে কিছু কর্মীকে জরুরি ভিত্তিতে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদিও এর কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ দেখানো হয়নি তবুও বিশেষজ্ঞরা একে সম্ভাব্য যুদ্ধের আগাম প্রস্তুতি হিসেবেই দেখছেন। অতীতে উত্তেজনার মুহূর্তে এই ঘাঁটিটি বারবার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল।

লক্ষ্যভেদী সার্জিক্যাল স্ট্রাইক

সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান বা ইরাকের মতো দীর্ঘমেয়াদি কোনো স্থল যুদ্ধে জড়াতে আগ্রহী হবে না। ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের নীতিগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় তিনি বড় অভিযানের চেয়ে সংক্ষিপ্ত সার্জিক্যাল স্ট্রাইক বেশি পছন্দ করেন। অস্ট্রেলিয়ার ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শাহরাম আকবরজাদেহের মতে ট্রাম্প এমন অভিযান চান যেখানে ঝুঁকি কম কিন্তু সাফল্য শতভাগ নিশ্চিত। এক্ষেত্রে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ওপর ড্রোন হামলা বা দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় লক্ষ্যভেদী বিমান হামলার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এর মূল লক্ষ্য হতে পারে তেহরানকে ওয়াশিংটনের দেওয়া পারমাণবিক শর্তাবলী মানতে বাধ্য করা।

পাল্টা আঘাতের শঙ্কা

তবে ইরানে এমন কোনো অভিযান চালানো মার্কিন সামরিক বাহিনীর জন্য খুব একটা সহজ কাজ হবে না। ইরানের শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং তাদের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমান হামলার সামনে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। যেকোনো হামলার জবাবে ইরান যদি মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা আঘাত হানে তবে তা পুরো অঞ্চলে যুদ্ধ ছড়িয়ে দেবে। বিশেষ করে ইরানের ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো সাধারণ বিমান হামলায় ধ্বংস করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করেন অনেক বিশেষজ্ঞ। এই পাল্টা আঘাতের ফলে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাকে চিরতরে ধ্বংস করে দিতে পারে।

ভূ-রাজনৈতিক জটিল সমীকরণ

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি অনুযায়ী তিনি বিদেশের মাটিতে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে অর্থ বা জনবল ব্যয় করতে একদমই নারাজ। তাই স্থলপথে ইরান দখলের কোনো সম্ভাবনা বর্তমানে নেই বললেই চলে তবে আকাশপথে হামলা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি এখন একটি বিশাল এবং জটিল ভূ-রাজনৈতিক খেলার অংশে পরিণত হয়েছে যা পুরো বিশ্বকে ভাবিয়ে তুলছে। ট্রাম্পের বার্তাটি নিছক কথার কথা নাকি আসন্ন কোনো রক্তক্ষয়ী অভিযানের পূর্বাভাস তা কেবল সময়ই বলে দেবে। তবে নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে কোনো সামরিক পদক্ষেপের পরিণতি শুধু তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।

আরও পড়ুন