ইরানের উত্তাল পরিস্থিতিতে তেহরানে ব্রিটিশ দূতাবাস বন্ধ ও কূটনীতিকদের দ্রুত প্রত্যাহার
ইরানে চলমান সরকারবিরোধী তীব্র বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান সহিংসতার মুখে তেহরানে অবস্থিত নিজেদের দূতাবাস বন্ধ ঘোষণা করেছে যুক্তরাজ্য। একইসঙ্গে দেশটিতে কর্মরত সকল ব্রিটিশ কূটনীতিক ও দূতাবাস কর্মীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর নজিরবিহীন কঠোর দমনপীড়নের ফলে পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করায় এই জরুরি সিদ্ধান্ত নিল লন্ডন। আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা এপি জানিয়েছে, এই অস্থিরতায় ইতিমধ্যে বহু মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে এবং দেশটির রাজনৈতিক কাঠামোয় বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
দূতাবাস কার্যক্রম স্থবির
ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তেহরানের বর্তমান পরিস্থিতি কূটনীতিকদের অবস্থানের জন্য মোটেও নিরাপদ নয়। দূতাবাস শারীরিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হলেও কনস্যুলার সেবাগুলো এখনই পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, জরুরি কনস্যুলার কাজগুলো এখন থেকে "দূরবর্তী কোনো নিরাপদ স্থান" বা অনলাইনের মাধ্যমে পরিচালনা করা হবে। তবে মাঠ পর্যায়ে সরাসরি সেবা প্রদানের কোনো সুযোগ আপাতত থাকছে না।
আন্তর্জাতিক মহলে শঙ্কা
ইরানের অভ্যন্তরে রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সামাজিক উত্তেজনা নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখন গভীর উদ্বেগ বিরাজ করছে। কেবল যুক্তরাজ্যই নয়, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশই তেহরানে তাদের নাগরিকদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করেছিল। অনেক দেশ ইতিমধ্যে তাদের দূতাবাস কর্মীদের সীমিত করেছে বা সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে। যুক্তরাজ্যের এই সর্বশেষ পদক্ষেপ ইরানের নাজুক নিরাপত্তা পরিস্থিতিকেই পুনরায় সামনে নিয়ে এল। এই অচলাবস্থার কারণে দেশটিতে অবস্থানরত বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষা নিয়ে বড় ধরণের প্রশ্ন উঠেছে।
জরুরি সেবায় অনিশ্চয়তা
দূতাবাস বন্ধ হওয়ায় ইরানে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের জরুরি কোনো প্রয়োজনে সহায়তা পাওয়া এখন অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে। ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট করে বলেছে যে, প্রতিকূল পরিবেশের কারণে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম চালানো প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই নাগরিকদের নিজস্ব উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করার বা সম্ভব হলে দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অনলাইনে সেবা চালুর কথা বলা হলেও তা সরাসরি উপস্থিতির বিকল্প হয়ে উঠবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইরান সরকারের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো জোরালো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ভবিষ্যতের চরম অনিশ্চয়তা
ইরানের বর্তমান শাসনকাঠামো এই তীব্র জনরোষ মোকাবিলায় রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। সারা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই আন্দোলন কেবল তেহরানেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রান্তিক এলাকাগুলোতেও এর আঁচ ছড়িয়ে পড়েছে। এই অস্থিতিশীল পরিবেশ কতদিন স্থায়ী হবে সে সম্পর্কে কোনো নির্দিষ্ট ধারণা দিতে পারছে না কোনো পক্ষই। ব্রিটিশ কূটনীতিকদের এই ত্বরিত প্রত্যাহার দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও একটি দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে। পুরো বিশ্ব এখন তীক্ষ্ণ নজরে রাখছে মধ্যপ্রাচ্যের এই গুরুত্বপূর্ণ দেশটির পরবর্তী পরিস্থিতির দিকে।