সর্বশেষ
Loading breaking news...

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্টারমার যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করাকে 'বোকামি' বললেন

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতির পটপরিবর্তনের মধ্যে, যুক্তরাষ্ট্রের চাপ থাকা সত্ত্বেও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা একটি মারাত্মক ভুল হবে। গ্রিনল্যান্ড এবং শুল্ক সংক্রান্ত বিষয়ে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে লন্ডন এই গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান গ্রহণ করল। স্টারমারের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো যখন পশ্চিমা বিশ্বের অনেকেই চীনের ওপর নির্ভরতা কমানোর কথা ভাবছে।

সম্পর্কের গুরুত্ব কেন বাড়ল?

স্থানীয় সময় শুক্রবার সাংহাই থেকে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে স্টারমার এই মন্তব্য করেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যা কিছু ঘটছে, তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে যুক্তরাজ্যের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতিতে। ফলস্বরূপ, আজকের এই অস্থির বিশ্বে কোনো অংশ থেকেই বিচ্ছিন্ন থাকা সম্ভব নয়; বরং সকল পক্ষের সঙ্গেই যুক্ত থাকা আবশ্যক।

ট্রাম্পের মন্তব্যের জবাব

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীনের সঙ্গে যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক সম্পর্ককে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ আখ্যা দিয়ে মন্তব্য করেছিলেন। স্টারমার নিশ্চিত করেন যে তিনি ট্রাম্পের এই মন্তব্য সম্পর্কে অবগত আছেন এবং এই সফরের পূর্বে তারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমের সঙ্গে আলোচনাও করেছেন। তিনি ট্রাম্পের উদ্বেগের বিষয়টি আমলে নিয়েও নিজস্ব পররাষ্ট্রনীতির ওপর জোর দেন।

ঘরোয়া নীতির ওপর প্রভাব

স্টারমার উল্লেখ করেন, এমনকি এপ্রিল মাসে ট্রাম্প নিজেও চীন সফরের পরিকল্পনা করছেন—এই তথ্য তুলে ধরে তিনি জোর দেন যে, বিশ্বজুড়ে যে টানাপোড়েন চলছে, তার ছায়া ঘরোয়া নীতিতেও পড়ছে। তাই চীনের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, বিচ্ছিন্নতাবাদ কোনো সমাধান নয় বরং সংলাপের মাধ্যমেই সমস্যার সমাধান সম্ভব।

অর্থনীতিবিদদের চোখে সহযোগিতা

কেবল রাজনৈতিক অবস্থান নয়, অর্থনীতিতেও চীনের সঙ্গে নিবিড় সংযোগের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ক্রিস্টোফার পিসারিদিস বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য যুক্তরাজ্য ও চীনের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় স্থাপন জরুরি বলে মনে করেন। স্টারমারের মন্তব্য এই ইঙ্গিতই দিচ্ছে যে, কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বিতা সত্ত্বেও বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক স্তরে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে চাইছে যুক্তরাজ্য।

আরও পড়ুন