সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানের শাসনব্যবস্থার পতন চেয়ে ইউক্রেন ও ইসরায়েলের জোরালো অবস্থান

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন জরুরি বলে এক বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন যা বিশ্ব রাজনীতিতে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানকে সরাসরি সমর্থন জানিয়ে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে বহু মানুষের প্রাণ কেড়ে নেওয়া এই শাসনব্যবস্থার টিকে থাকার আর কোনো নৈতিক অধিকার নেই। তাঁর এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এল যখন ইরানজুড়ে চলা বিক্ষোভ দমনে সরকারের কঠোর নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়েছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ। জেলেনস্কির এই অবস্থান কিয়েভ এবং ওয়াশিংটনের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের এক নতুন মাত্রা প্রকাশ করছে। আন্তর্জাতিক মহলে তেহরানকে ঘিরে এখন এক জটিল ও বহুমুখী রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।

পরিবর্তনের জোরালো আহ্বান

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জেলেনস্কি দ্ব্যর্থহীন ভাষায় পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথা বিশ্ববাসীকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন যে আমরা ইরান বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পদক্ষেপকে সমর্থন করি এবং বর্তমান নেতৃত্বের অবসানই এখন একমাত্র পথ। জেলেনস্কির মতে ইরানে এখন বাস্তব এবং দৃশ্যমান পরিবর্তন সময়ের এক বড় দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে যা আর এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। এই বার্তার পরপরই ইউরোপের একাধিক রাষ্ট্র তেহরানে নিযুক্ত তাদের রাষ্ট্রদূতদের তলব করে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী বলপ্রয়োগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে। কিয়েভের এই জোরালো বার্তা মূলত মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে একটি বড় ধরণের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

রাশিয়ার কঠোর হুঁশিয়ারি

অন্যদিকে এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে ইরানের পাশে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়েছে তাদের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র এবং ইউক্রেনের প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র রাশিয়া। মস্কো ইরানের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যেকোনো ধরনের বিদেশি হস্তক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে একে অত্যন্ত আপত্তিকর বলে অভিহিত করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে এই ধরনের পদক্ষেপ মূলত একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্বের ওপর এক ধরণের ধ্বংসাত্মক বহিরাগত হস্তক্ষেপ। রাশিয়া মনে করে যে পশ্চিমা বিশ্ব ও ইউক্রেন মিলে ইরানকে অস্থিতিশীল করার এক সুদূরপ্রসারী ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। মস্কোর এই হুঁশিয়ারি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মেরুকরণ এবং স্নায়ুযুদ্ধের উত্তাপ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ইসরায়েলের অদৃশ্য হাত

ইরান পরিস্থিতি নিয়ে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইসরায়েল অত্যন্ত কৌশলী ও দূরদর্শী অবস্থান গ্রহণ করেছে যা অনেক বিশ্লেষককে নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। দেশটির সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্ট মন্তব্য করেছেন যে বর্তমান শাসনব্যবস্থার পতন ঘটানো এখন সময়ের প্রয়োজনে অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন যে ইসরায়েলকে এই পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে এবং পর্দার আড়াল থেকে সক্রিয় হতে হবে। গ্যালান্টের মতে যখন জনগণ রাজপথে সোচ্চার তখন আমাদের "অদৃশ্য হাতে" পেছন থেকে পুরো পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করতে হবে। তিনি সরাসরি সম্মুখ যুদ্ধের পরিবর্তে কৌশলগত ধৈর্য এবং বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ

তেহরানকে ঘিরে ঘনীভূত হওয়া এই নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যসহ গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে। একদিকে ইউক্রেন ও ইসরায়েলের অভিন্ন লক্ষ্য এবং অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরোধ এই অঞ্চলকে এক অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন যে ওয়াশিংটন কিয়েভ ও তেল আবিবের এই ঐক্যবদ্ধ অবস্থান মূলত ইরানের আঞ্চলিক প্রভাব খর্ব করার একটি বড় কৌশল। বিক্ষোভ ও আন্তর্জাতিক চাপের মুখে ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় তা এখন দেখার বিষয়। শেষ পর্যন্ত এই কূটনৈতিক টানাপড়েন বিশ্ব শান্তির জন্য বড় ধরণের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

আরও পড়ুন