লিসবনের বুকে ঐক্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধন: পর্তুগাল বিএনপির জমকালো ইফতার মাহফিল
পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে এক বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) পর্তুগাল শাখার দোয়া ও ইফতার মাহফিল। শহরের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয়। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং দলের চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফেরাত কামনাই ছিল এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পর্তুগাল বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাইফুল হক এবং সঞ্চালনায় ছিলেন এম এ হাকিম মিনহাজ।
কূটনৈতিক মর্যাদা ও সংহতির নতুন দিগন্ত
অনুষ্ঠানের বিশেষ আকর্ষণ ছিল পর্তুগালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. মাহফুজুল হকের উপস্থিতি। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি প্রবাসীদের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি দেশের উন্নয়ন ও প্রবাসে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। দূতাবাসের কাউন্সেলর লায়লা মুনতাজেরী দীনা এবং দূতালয় প্রধান এস এম গোলাম সরোয়ারসহ দূতাবাসের পদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে ভিন্ন এক উচ্চতা দান করে, যা দলমত নির্বিশেষে সকলের প্রশংসা কুড়ায়।
পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন স্বেচ্ছাসেবক দল পর্তুগাল শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক মো. রিয়াজ উদ্দিন। তিনি প্রবাসে বসবাসরত বাংলাদেশিদের ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ থাকার গুরুত্ব তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক ও কমিউনিটি সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। রাজনৈতিক সীমানা পেরিয়ে আয়োজনটি হয়ে ওঠে এক গভীর সামাজিক মেলবন্ধন, যেখানে সবাই এক কাতারে শামিল হন।
কল্যাণ কামনায় বিশেষ মোনাজাত
অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশ, জাতি এবং সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পরিচালনা করা হয়। একই সাথে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুস্বাস্থ্য কামনায় দোয়া করেন উপস্থিত সকলে। ইফতারের টেবিলে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এই মিলনমেলা পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বন্ধন আরও দৃঢ় করার এক অনন্য সুযোগ তৈরি করে দেয়। প্রবাস জীবনে এক টুকরো দেশের আবহ তৈরি হয় এই আয়োজনে।
পরিশেষে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ একসঙ্গে ইফতার গ্রহণের মাধ্যমে এই উৎসবমুখর আয়োজনের সমাপ্তি টানেন। এই ধরনের আয়োজন প্রবাসীদের মধ্যে ঐক্য ও সংহতি বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আয়োজকরা ভবিষ্যতে আরও বড় পরিসরে এমন অনুষ্ঠান করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। লিসবনের বুকে একখণ্ড বাংলাদেশ হয়ে উঠেছিল এই ইফতার মাহফিলটি।