সর্বশেষ
Loading breaking news...

‘গ্রেটার ইসরায়েল’ নিয়ে মার্কিন দূত মাইক হাকাবির মন্তব্যে বিশ্বজুড়ে তোলপাড়

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

জেরুজালেমে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবির এক মন্তব্যে আন্তর্জাতিক রাজনীতির আঙিনা নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। হাকাবি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, ইসরায়েল যদি মধ্যপ্রাচ্যের এক বিশাল অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়, তাতে তাঁর কোনো আপত্তি নেই। ইহুদিদের ‘ভূমি অধিকার’ ও ধর্মীয় ব্যাখ্যার দোহাই দিয়ে তিনি যে মন্তব্য করেছেন, তা রীতিমতো বিশ্বজুড়ে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

বাইবেলের মানচিত্র ও 'গ্রেটার ইসরায়েল'-এর স্বপ্ন

সম্প্রতি কট্টর রক্ষণশীল ভাষ্যকার টাকার কার্লসনের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে এই প্রসঙ্গটি উঠে আসে। কার্লসন বাইবেলের সেই আয়াতে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন, যেখানে নীল নদ থেকে ইউফ্রেটিস নদী পর্যন্ত ভূখণ্ড ইব্রাহিমের বংশধরদের দেওয়ার প্রতিশ্রুতি রয়েছে। ভৌগোলিক বিচারে এই বিশাল এলাকার মধ্যে বর্তমান লেবানন, সিরিয়া, জর্ডান এবং সৌদি আরবের একাংশ পড়ে। হাকাবিকে যখন জিজ্ঞাসা করা হয়, ইসরায়েল যদি এই পুরো অঞ্চলটি দখল করে নেয় তবে কি তিনি তা সমর্থন করবেন? জবাবে তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন, “তারা যদি সবটা নিয়েও নেয়, তবে তাতে কোনো সমস্যা নেই।”

যুদ্ধের সমীকরণ ও দখলের 'বৈধতা'?

ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিয়োগকৃত এই রাষ্ট্রদূত অবশ্য পরে তাঁর বক্তব্যের সুর কিছুটা নরম করার চেষ্টা করেছেন। কার্লসনের বিস্ময়ের জবাবে তিনি বলেন, বর্তমানে ইসরায়েল নিজ থেকে এই এলাকাগুলো দখল করতে চাইছে না। তবে তিনি একটি ভিন্ন পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেছেন। হাকাবির মতে, যদি প্রতিবেশী দেশগুলোর আক্রমণের শিকার হয়ে ইসরায়েল যুদ্ধে জড়ায় এবং জয়ী হয়ে ওই ভূখণ্ড দখল করে, তবে সেটি সম্পূর্ণ ভিন্ন আলোচনার বিষয় হবে।

এদিকে, হাকাবির এমন বিস্ফোরক মন্তব্য নিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির মধ্যে এমন মন্তব্য আগুনে ঘি ঢালতে পারে এবং আরব বিশ্বের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কে ফাটল ধরাতে পারে।

‘গ্রেটার ইসরায়েল’-এর ধারণাটি ভূ-রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের বিতর্কের বিষয়। মাইক হাকাবির মতো একজন উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের মুখে এমন খোলামেলা সমর্থন, তা তাত্ত্বিক হলেও, মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির কট্টরপন্থী অংশের মনোভাবকেই প্রকাশ করে, যা বিশ্বনেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।

আরও পড়ুন