সর্বশেষ
Loading breaking news...

ইরানে মহাপ্রলয়ের সংকেত? তেহরানে এযাবৎকালের ‘বৃহত্তম বোমাবর্ষণের’ চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের

খবরের ছবি
ছবি: সংরক্ষণাগার

মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে আবারও যুদ্ধের চরম দামামা বেজে উঠেছে। ইরানকে লক্ষ্য করে এযাবৎকালের সবচেয়ে বিধ্বংসী ও বড় ধরনের সামরিক অভিযানের আগাম বার্তা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফক্স নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এই বিস্ফোরক পূর্বাভাস দিয়েছেন। তাঁর দাবি অনুযায়ী, ইরানকে এক নজিরবিহীন সামরিক ধাক্কা দিতে ওয়াশিংটন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত, যা অঞ্চলের স্থিতিশীলতায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে।

হামলার নীল নকশা ও লক্ষ্যবস্তু

সাক্ষাৎকারে স্কট বেসেন্ট অত্যন্ত সরাসরি ভাষায় জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম বোমাবর্ষণ কর্মসূচি পরিচালিত হতে যাচ্ছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে দেশটির ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং সর্বাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির কারখানাগুলোকে। মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য হলো এই গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোগুলোর ওপর ব্যাপক হামলা চালিয়ে সেগুলোকে পুরোপুরি গুঁড়িয়ে দেওয়া এবং ইরানের প্রতিরক্ষা সক্ষমতাকে অচল করে দেওয়া।

বেসেন্ট অত্যন্ত আত্মবিশ্বাসের সাথে আরও যোগ করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যেই ইরানের এই গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকে উল্লেখযোগ্যভাবে অকার্যকর করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এই সুপরিকল্পিত পদক্ষেপের মাধ্যমে তেহরানের সামরিক শক্তির মেরুদণ্ড ভেঙে দেওয়ার স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে মার্কিন প্রশাসনের পক্ষ থেকে। পেন্টাগনের পরিকল্পনায় ইরানের আক্রমণাত্মক ক্ষমতা কমিয়ে আনার বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পাচ্ছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা ও হরমুজ প্রণালি

সামরিক পদক্ষেপের ঘোষণার পাশাপাশি ইরানের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগও তুলেছেন এই মার্কিন শীর্ষ কর্মকর্তা। তেহরানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ‘অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার’ অভিযোগ এনে তিনি বলেন, বৈশ্বিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা বিশ্ব অর্থনীতিতে অস্থিরতা তৈরি করছে। কৌশলগত এই জলপথ দিয়ে বিশ্বের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবাহিত হয়, যা ইরান রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়।

মূলত কৌশলগত এই জলপথকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ইরান যে চাপ সৃষ্টির রাজনীতি করছে, তার কড়া জবাব দিতেই এই রণকৌশল সাজানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আল-জাজিরার বরাত দিয়ে আসা এই চাঞ্চল্যকর তথ্যটি বর্তমানে আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই হামলা কার্যকর হলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের সূচনা হতে পারে, যার প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্বের জ্বালানি বাজারে।

আরও পড়ুন